সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina-এর ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার (ইনসাফ) নিশ্চিত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা Jahid Ur Rahman। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরেন, তবে তাঁর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিচারবহির্ভূত (এক্সট্রা জুডিশিয়াল) ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।
মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সংবাদ সম্মেলনে সরকারের তিন মাসের কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী Zahir Uddin Swapan।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্যই হলো ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে প্রতিপক্ষ বা বিরোধীর ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত থাকবে। তাঁর ভাষায়, আগের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি—এ কারণে পরিবর্তনের দাবি ওঠে।
তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার মানে শুধুমাত্র দণ্ড প্রদান নয়, বরং একটি স্বচ্ছ ও যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচার হলে তা প্রক্রিয়াগতভাবে সম্পন্ন করতে হবে এবং সেই সিদ্ধান্তই চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও ইনসাফ থাকবে। তিনি যদি দেশে ফেরেন, তাঁকে কোনো বিচারবহির্ভূত ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কারও দায় নির্ধারণ করা হবে এবং সেই কাঠামোর বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে কারও প্রতি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং আইনি কাঠামোর মধ্যেই বিচার সম্পন্ন হবে। তিনি দাবি করেন, ন্যায়বিচারের ধারণা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত—বন্ধু বা বিরোধী নির্বিশেষে।
এ সময় তিনি বিচার প্রক্রিয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও সেটি যদি যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রদান করা হয়, তবে তা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য। একইভাবে, উচ্চ আদালতের মাধ্যমে রায় পরিবর্তন বা পুনর্বিবেচনার সুযোগও থাকে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রশাসনিক সংস্কার, নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত মূল্যায়ন চলছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের তিন মাসের কার্যক্রম উপস্থাপনের অংশ হিসেবে গণমাধ্যম নীতি, তথ্য প্রবাহ এবং ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবস্থাপনার অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এমন মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিশেষ করে ন্যায়বিচার ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের অবস্থানকে এটি স্পষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার, এবং এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় নয় বরং আইনি কাঠামোই হবে মূল ভিত্তি।