ঢাকা

ইরানকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের কড়া বার্তা: সময় শেষের পথে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে চলমান আলোচনায় অচলাবস্থার মধ্যে ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের “সময় ফুরিয়ে আসছে” এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে দেশটি গুরুতর পরিণতির মুখে পড়বে।

রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প লিখেন, “তাদের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া, নাহলে তাদের আর কিছুই থাকবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “এখন সময়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

এই বার্তাটি এমন এক সময়ে আসে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত থমকে গেছে। বার্তাটি প্রকাশের কিছুক্ষণ পরেই ট্রাম্পের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–এর সঙ্গে ফোনালাপ হওয়ার কথা ছিল।

আলোচনা স্থবির, পাল্টাপাল্টি অবস্থানে ওয়াশিংটন-তেহরান

আলোচনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে মূলত পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু ঘিরে। ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যম জানায়, তেহরানের দেওয়া প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিতে রাজি হয়নি, যার ফলে আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানের কারণে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

এর আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানের দাবিগুলো “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” এবং বর্তমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি “লাইফ সাপোর্টে” রয়েছে।

ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ও অতীত হুঁশিয়ারি

এপ্রিলের শুরুর দিকেও ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে “পুরো একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে”। সাম্প্রতিক বক্তব্যেও সেই একই কঠোর সুর লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে তিনি পুনরায় তেহরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আলোচনার ভিত্তি এখনও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

তবে অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দাবি করেন, তেহরানের প্রস্তাব ছিল “দায়িত্বশীল” এবং “উদার”, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ তৈরি করতে পারত।

ইরানের শর্ত ও পাল্টা দাবি

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরানের প্রস্তাবের মধ্যে ছিল—

সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার
ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান
গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি

অন্যদিকে আরেক আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস জানায়, যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা পাঁচটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানকে শুধু একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখতে হবে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করতে হবে।

পারমাণবিক ইস্যুতে দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব

পারমাণবিক কর্মসূচি ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যদি অন্তত ২০ বছরের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তা বিবেচনা করতে পারে।

অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের পক্ষে থাকলেও সাম্প্রতিক অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত মিলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সামরিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক প্রভাব

চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামরিক সংঘাতও অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে, যার জবাবে ইরানও পাল্টা অবস্থান নিয়েছে।

ইরান এখনো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। এই নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে এবং তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পশ্চিমা হামলার প্রতিক্রিয়াতেই তারা এই অবস্থান নিয়েছে।

মধ্যস্থতা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। তবে মধ্যস্থতা সত্ত্বেও দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক অগ্রগতি না হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও পড়বে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স