ঢাকা

বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে ভয়ংকর হচ্ছে নারী–শিশু সহিংসতা: অধিকার কমিটি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। সংগঠনটি বলেছে, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংস অপরাধগুলোর বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন না হওয়ায় এসব ঘটনা দিন দিন ভয়াবহ ও নৃশংস রূপ নিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পরীবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত অধিকার কমিটির এক সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার বিস্তারিত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় পল্লবীর শিশুসহ সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সব শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গত চার মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১৮ জন কন্যাশিশু ধর্ষণ ও ১৭ জন শিশু হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, এ ধরনের সহিংসতা সমাজে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা, সংবেদনশীলতার অবক্ষয় এবং নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ।

সংগঠনটির মতে, বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, দায়মুক্তির সংস্কৃতি এবং সামাজিক সচেতনতার ঘাটতি অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক আন্দোলনের অভাবও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে সভায় মত দেওয়া হয়।

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ পর্যাপ্ত নয়। ফলে অপরাধের পুনরাবৃত্তি বাড়ছে এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

অধিকার কমিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনাগুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিশেষ করে মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের আরও সক্রিয় ও প্রতিবাদী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয় সভায়। পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা বাধ্যতামূলক করার দাবি তোলা হয়।

সভায় আরও বলা হয়, দেশে হামে শিশুদের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আরও কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

এছাড়া রাজধানীর শাহ আলী মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারের কার্যকর ভূমিকা কামনা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে সভায়। পাশাপাশি বম সম্প্রদায়ের ৭০০ দিনের বেশি সময় ধরে আটক থাকা সদস্যদের মুক্তি এবং আরাকান আর্মির হাতে আটক জেলেদের উদ্ধারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বার্থবিরোধী বাণিজ্যচুক্তির বিরুদ্ধে আগামী ৭ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্তও সভায় জানানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। এতে উপস্থিত ছিলেন হারুন উর রশীদ, মোশাহিদা সুলতানা, আকরাম খান, জয়দীপ ভট্টাচার্য, শহীদুল ইসলাম, মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, নাজমুস সাকিব, একরাম হোসেন, বাকী বিল্লাহ, অনুপ কুমার কুন্ডু, রাফিকুজ্জামান ফরিদ, ছায়েদুল হকসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স