ঢাকা

খেটে খাওয়া মানুষের জীবন-জীবিকা সরকারের অগ্রাধিকারে নেই: সিপিবি সভাপতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
খেটে খাওয়া মানুষের জীবন ও জীবিকার বিষয়ে সরকার কোনো ধরনের দায়দায়িত্ব বোধ করছে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। তিনি বলেছেন, সরকারের গত ছয় মাসের শাসন পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়, খেটে খাওয়া মানুষ সরকারের অগ্রাধিকারে নেই।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কেন্দ্রীয় শ্রমিক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘বিগত ছয় মাসের শাসন দেখে এটা স্পষ্ট যে সরকারের অগ্রাধিকারে খেটে খাওয়া মানুষের কোনো স্থান হয়নি।’ খেটে খাওয়া মানুষের জীবন ও জীবিকার বিষয়ে সরকারের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সমাবেশের আগে পুরানা পল্টন মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন দলটির নেতা-কর্মী ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। মিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাব ও কদম ফোয়ারা হয়ে জিরো পয়েন্ট ও গুলিস্তান এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার পুরানা পল্টনে এসে শেষ হয়।

নিত্যপণ্যের দাম ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ

সমাবেশে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান, কম মজুরি, শ্রমিক ছাঁটাই, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক সুরক্ষার ঘাটতির কারণে শ্রমজীবী মানুষের জীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবিলম্বে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং তা দেশের সর্বত্র কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে কর্মরত চার লাখের বেশি শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান সিপিবির সাধারণ সম্পাদক।

পোশাক ও চা-শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি

সমাবেশে বক্তারা পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি কমিশন গঠন করে দ্রুত নতুন মজুরিকাঠামো নির্ধারণ এবং ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবি জানান।

চা-শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের প্রতিও সংহতি জানান তাঁরা। চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি তুলে বক্তারা বলেন, খেতমজুর, গৃহশ্রমিক, চাতালশ্রমিকসহ সব ধরনের মজুরিভিত্তিক শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা এবং ‘জীবিকা সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের দাবিও জানানো হয়।

পাটকল চালু ও হকার উচ্ছেদ বন্ধের দাবি

সমাবেশ থেকে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা এবং সুষ্ঠু যান্ত্রিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালু করে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। পাশাপাশি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে হকার উচ্ছেদ বন্ধের দাবিও করা হয়।

শ্রমিক ছাঁটাই, বঞ্চনা ও বৈষম্য বন্ধের পাশাপাশি শ্রম আইন এবং শ্রমিকদের সাংবিধানিক অধিকার পুরোপুরি কার্যকর করার আহ্বান জানান সমাবেশের নেতারা।

সমাবেশে আরও যারা বক্তব্য দেন

কেন্দ্রীয় শ্রমিক সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার ও এস এ রশীদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সহসভাপতি মাহাবুবুল আলম, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

বক্তারা শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত এবং শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স