ঢাকা

আল–মোখা শহর হুতিদের নিয়ন্ত্রণে, চাপে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনের দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। দেশটির তাইজ শহরের পশ্চিমে টানা নয় দিন ধরে চলা তীব্র লড়াইয়ের পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল-মোখা শহরটি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।

আল-মোখা লোহিত সাগরের তীরবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে হুতিরা শুধু তাইজের পশ্চিমাঞ্চলে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেনি, বরং লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকাজুড়ে তাদের সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছে।

আল-মোখায় অবস্থানরত কয়েকটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে আল-জাজিরার সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, শহরটি ইতিমধ্যে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। সরকারি বাহিনীও আল-মোখা থেকে তাদের সামরিক ইউনিট সরিয়ে নিয়েছে। তবে এ বিষয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি তখনো বাকি ছিল।

নয় দিনের লড়াইয়ের পর নিয়ন্ত্রণ

তাইজের পশ্চিমাঞ্চলে বেশ কিছুদিন ধরেই অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছিল হুতিরা। তাদের সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল আল-মোখা শহর এবং এর আশপাশের লোহিত সাগরীয় উপকূলীয় এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।

এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে টানা নয় দিন ধরে তীব্র সংঘর্ষ চলে। লড়াইয়ে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী অস্ত্র ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে।

শেষ পর্যন্ত সরকারি বাহিনীর সামরিক ইউনিটগুলো আল-মোখা থেকে সরে গেলে শহরটির নিয়ন্ত্রণ কার্যত হুতিদের হাতে চলে যায় বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানিয়েছে আল-জাজিরা।

বাব আল-মানদেব ঘিরে কৌশলগত গুরুত্ব

আল-মোখা ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হুতিদের জন্য সামরিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, এলাকাটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি।

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এই প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ফলে আল-মোখা ও এর আশপাশের উপকূলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ওই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজের ওপর চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে হুতিদের সক্ষমতা বাড়তে পারে।

একই সঙ্গে দক্ষিণ ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সরবরাহপথ বিচ্ছিন্ন করার সুযোগও তৈরি হতে পারে। ফলে আল-মোখার নিয়ন্ত্রণকে শুধু একটি শহর দখলের ঘটনা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা; বরং এটিকে তাইজ ও এর পশ্চিমাঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সরকারি বাহিনীর ওপর বাড়ছে চাপ

আল-মোখা হারানোর ফলে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে তাইজের পশ্চিমে তাদের সামরিক অবস্থান ও সরবরাহব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হুতিদের লক্ষ্য শুধু আল-মোখা শহর দখলেই সীমাবদ্ধ নয়। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করতে পারলে তারা পশ্চিম ইয়েমেনে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বিস্তৃত করতে পারবে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর সুযোগও বাড়বে।

তাইজ এমনিতেই ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র। শহরটির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এর নিয়ন্ত্রণকে দেশের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ ও সামরিক সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।

দুই সপ্তাহে নিহত ১৯৪, আহত ৮৮০

এদিকে গত দুই সপ্তাহে তাইজ, পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূল, আল-জাউফ, মারিব ও আল-দালি প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

এসব লড়াইয়ে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনসহ ভারী অস্ত্র ব্যবহারের কথা জানা গেছে। গত দুই সপ্তাহের সংঘর্ষে বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৯৪ জন নিহত এবং ৮৮০ জন আহত হয়েছেন।

তাইজের পশ্চিমাঞ্চলে হুতিদের সর্বশেষ অগ্রগতি ইয়েমেনের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে আল-মোখা ও লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে লড়াই শুরু হলে এর প্রভাব শুধু স্থানীয় যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাব আল-মানদেবকেন্দ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

ফলে আল-মোখায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণ কতটা স্থায়ী হয় এবং তারা উপকূলীয় অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান কতটা বিস্তৃত করতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স