ঢাকা

ডোনাল্ড ট্রাম্প কেন ছেলের বিয়েতে থাকছেন না, জানাল সিএনএন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র বিয়ে করতে যাচ্ছেন। কনে ফ্লোরিডার পাম বিচের পরিচিত সমাজকর্মী বেটিনা অ্যান্ডারসন। সপ্তাহান্তে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র বাহামা–এর একটি ছোট দ্বীপে বসছে তাঁদের বিয়ের আসর।

তবে পারিবারিক এই বিশেষ আয়োজনে উপস্থিত থাকছেন না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই।

সিএনএন–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠানটি খুবই সীমিত পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে। আমন্ত্রিত অতিথির সংখ্যা ৫০–এরও কম হতে পারে এবং সেখানে শুধু পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাই থাকবেন।

কেন যাচ্ছেন না ট্রাম্প

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি ছেলের বিয়েতে থাকতে চাইলেও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি লেখেন,
“ছেলে ডন জুনিয়র ও পরিবারের নতুন সদস্য বেটিনার পাশে থাকতে খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধের কারণে আমার সেখানে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

ট্রাম্প আরও বলেন,
“এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমার ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে থাকাটা জরুরি। ডন ও বেটিনাকে অভিনন্দন।”

ইরান সংকটসহ আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা

এর আগের দিন ওভাল অফিসে সাংবাদিকেরা তাঁকে ছেলের বিয়েতে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সরাসরি কোনো নিশ্চয়তা দেননি।

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন,
“সে চায় আমি যাই। এটি খুব ছোট ও ব্যক্তিগত আয়োজন। আমি যাওয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু সময়টা আমার অনুকূলে নয়। ইরান যুদ্ধসহ নানা বিষয় নিয়ে আমাকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

ব্যক্তিগত আয়োজন রাখতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প জুনিয়র

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, হবু দম্পতি বিয়ের অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত রাখতে চেয়েছিলেন।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকলে বিশাল নিরাপত্তাব্যবস্থা, সাংবাদিকদের উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক তৎপরতার কারণে অনুষ্ঠানটির ব্যক্তিগত পরিবেশ নষ্ট হতে পারত।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের যেকোনো সফরের সঙ্গে নিরাপত্তা দল, গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক বহর থাকে। এতে অন্য অতিথিদেরও ভোগান্তি বাড়তে পারে।

এই বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প খানিকটা রসিকতার সুরেও প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন,
“এমন পরিস্থিতি যে আমি বিয়েতে গেলেও সমালোচনা হবে, না গেলেও সমালোচনা হবে।”

পারিবারিক উপস্থিতি থাকবে

যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাচ্ছেন না, তবে সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প জুনিয়রের ভাইবোনেরা বিয়েতে উপস্থিত থাকবেন।

বিয়ের আয়োজনকে পুরোপুরি সংবাদমাধ্যমের নজরের বাইরে রাখতেই এই সীমিত আয়োজন করা হয়েছে।

ট্রাম্প জুনিয়রের দ্বিতীয় বিয়ে

ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে তিনি ভেনেসা ট্রাম্প–কে বিয়ে করেছিলেন।

১২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ২০১৮ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। সম্প্রতি ভেনেসা জানান, তিনি স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত।

ভেনেসার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ট্রাম্প জুনিয়র কিম্বার্লি গিলফয়েল–এর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। ২০২০ সালে তাঁদের বাগদান হলেও চার বছর পর সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।

পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসন কিম্বার্লি গিলফয়েলকে গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়।

রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও পারিবারিক আলোচনা

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প পরিবারের ব্যক্তিগত এই আয়োজনও এখন রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুপস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তাজনিত বিষয়গুলো এই বিয়েকে সাধারণ পারিবারিক আয়োজনের বাইরে একটি রাজনৈতিক আলোচনায় পরিণত করেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স