সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এ প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলামকে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন–এর নতুন সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন।
শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে অধ্যাপক এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলামকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যের মেয়াদ হবে যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা তাঁর অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত—যেটি আগে হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসনিক পরিবেশ তৈরিতে নতুন উপাচার্যের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা রয়েছে।
অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন ও একাডেমিক কাঠামো সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন–এর সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ইউজিসির সদস্য পদ থেকে অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খানের জমা দেওয়া পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন।
উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে ইউজিসির নতুন সদস্য নিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়ন, নীতিনির্ধারণ, গবেষণা সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইউজিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নতুন সদস্য হিসেবে অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুনের অভিজ্ঞতা কমিশনের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।