ঢাকা

রিজভীসহ চার নতুন সদস্য নিয়ে পুনর্গঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে চার নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন সদস্যরা হলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরহাদ হালিম (ডোনার) এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

শনিবার বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দলের সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানো এবং দলীয় সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এই চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

নতুন চার সদস্য অন্তর্ভুক্তির ফলে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে বর্তমানে সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। তবে দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিব স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত বলে গণ্য হওয়ায় পূর্ণ কমিটির কাঠামো ১৯ সদস্যের।

নতুন চার সদস্যের রাজনৈতিক পরিচয়

স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে জায়গা পাওয়া রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম ও দলীয় কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।

আমান উল্লাহ আমান বিএনপির প্রবীণ নেতা। তিনি এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্ররাজনীতির সময় থেকেই বিএনপির সঙ্গে যুক্ত এই নেতা পরবর্তী সময়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

ফরহাদ হালিম (ডোনার) ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকার পাশাপাশি দলীয় রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।

অন্যদিকে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

একসঙ্গে চারজনকে অন্তর্ভুক্তি

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠন হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিলের পর। ওই কাউন্সিলের পর স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে কমিটির কয়েকটি পদ শূন্য হয়ে যায়।

স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মৃত্যু, পদত্যাগ এবং অন্যান্য কারণে শূন্য হওয়া পদে বিভিন্ন সময়ে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করেছে বিএনপি। তবে এবার একসঙ্গে চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করা হলো।

দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিএনপির নীতিনির্ধারণী কাঠামো আরও কার্যকর করার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে অভিজ্ঞ নেতাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থায়ী কমিটিতে আগে ছিলেন ১৩ জন

নতুন চার সদস্য যুক্ত হওয়ার আগে বিএনপির ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে ১৩ জন সদস্য ছিলেন। তাঁরা হলেন—দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

এর সঙ্গে শনিবার রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ যুক্ত হলেন।

ফলে নতুন চার সদস্যসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।

মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর পরিবর্তন

স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর গত বৃহস্পতিবার মির্জা ফখরুল দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ফলে বিএনপির মহাসচিব পদটি শূন্য হওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও তাঁর অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে।

মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতে নতুন করে নেতৃত্বের সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চারজনকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই পরিবর্তনের ফলে বিএনপির পরবর্তী সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

মহাসচিব পদ নিয়েও আলোচনা

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির মহাসচিবের পদটি এখন শূন্য। নতুন মহাসচিব কে হবেন, সে বিষয়ে দলীয়ভাবে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

তবে রুহুল কবির রিজভীকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা রিজভী এখন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য হলেন।

তাঁকে ভবিষ্যতে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ফলে স্থায়ী কমিটিতে তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে মহাসচিব পদে সম্ভাব্য পরিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে দেখার সুযোগ এখনো নেই।

১৯ সদস্যের কাঠামোতে নতুন সমীকরণ

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। দলের চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিব এই কমিটির সদস্য হিসেবে গণ্য হন। চেয়ারম্যান কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির সদস্য। অন্যদিকে মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর মহাসচিবের পদটি শূন্য রয়েছে। ফলে নতুন মহাসচিব নির্বাচনের পর স্থায়ী কমিটির সাংগঠনিক কাঠামো আরও এক দফা পরিবর্তিত হবে।

এ অবস্থায় নতুন চার নেতার অন্তর্ভুক্তি বিএনপির নীতিনির্ধারণী কাঠামোকে নতুন করে সাজানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সামনে আরও পরিবর্তনের সম্ভাবনা

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতা এবং তাঁর দলীয় পদত্যাগের পর বিএনপিতে একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তনের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বে থাকা বিএনপির নেতাদের ক্ষেত্রেও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে মির্জা ফখরুল বর্তমানে যে দায়িত্বে ছিলেন, সেসব দায়িত্বে পরিবর্তনের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে।

তবে স্থায়ী কমিটিতে নতুন চার সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিএনপি আপাতত শুধু সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর বিষয়টিকেই কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিএনপির স্থায়ী কমিটি এখন আগের তুলনায় আরও পূর্ণাঙ্গ কাঠামো পেলেও ১৯ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো সম্পন্ন করতে আরও পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ এবং মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের পর স্থায়ী কমিটির চূড়ান্ত কাঠামো কী দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স