ঢাকা

হোয়াইট হাউসের কাছে গুলির ঘটনায় উত্তেজনা, সন্দেহভাজনের অতীত ঘিরে প্রশ্ন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের কাছে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ২১ বছর বয়সী নাসির বেস্টের নাম উঠে এসেছে। একাধিক আইন প্রয়োগকারী সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সিএনএন এবং বিবিসি।

সূত্রগুলো জানায়, বেস্ট এর আগেও মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নজরে ছিলেন এবং একাধিকবার আটক হন। তার আচরণ ও মানসিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে বেস্ট হোয়াইট হাউসের একটি নিরাপত্তা লেন অবরুদ্ধ করে দেন। ওই সময় তিনি নিজেকে “ঈশ্বর” বলে দাবি করেন। পরে তাকে সিক্রেট সার্ভিস আটক করে এবং ওয়াশিংটনের একটি মনোরোগ চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

এর এক মাস পর একই ব্যক্তি আবারও হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সের একটি ড্রাইভওয়েতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। ওই ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে হোয়াইট হাউসের সীমানা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একাধিক বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের প্রমাণ পায়। এর মধ্যে নিজেকে “আসল ওসামা বিন লাদেন” বলে দাবি করার মতো পোস্টও ছিল। এছাড়া তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ক্ষতি করার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার দিন শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার পর হোয়াইট হাউস সংলগ্ন সেভেনটিন্থ স্ট্রিট ও পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সিক্রেট সার্ভিস–এর বিবৃতিতে বলা হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ব্যাগ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালাতে শুরু করেন।

এরপর সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা পাল্টা গুলি ছোড়েন। এতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে থাকা এক পথচারীও গুলিবিদ্ধ হন এবং তার অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।

ঘটনার সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরেই ছিলেন। সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিলেন এবং তার নিরাপত্তা বা কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউস এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছরের মে মাসে হোয়াইট হাউসের কাছে সশস্ত্র এক ব্যক্তির সঙ্গে সিক্রেট সার্ভিসের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে তাকে আটক করা হয়।

এর আগে এপ্রিল মাসেও হোয়াইট হাউস সংশ্লিষ্ট একটি অনুষ্ঠানের সময় গুলির ঘটনা ঘটে, যেখানে উচ্চপর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার পরিবারকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, একের পর এক এ ধরনের ঘটনা হোয়াইট হাউসের মতো অতি সংবেদনশীল স্থানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজনের মানসিক স্বাস্থ্য, অনলাইন কার্যকলাপ এবং পূর্ববর্তী আটক ইতিহাস ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স