ঢাকা

ট্রাম্প–নাটালিকে ঘিরে রহস্য ও গুঞ্জন, হোয়াইট হাউসে ঢোকার নেপথ্যে কী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
সিএনএন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জগতে দ্রুতই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছেন নাটালি হার্প। সাবেক ডানপন্থী টেলিভিশন উপস্থাপিকা এই নারী বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলয়ের একজন হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সার্বক্ষণিক উপস্থিতি, প্রেসিডেন্টের কাছে তথ্য ও বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে থেকেও তাঁর ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ—সব মিলিয়ে হোয়াইট হাউসে নাটালির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ডেমোক্রেটিক দলের সিনেটর জন অসফ প্রকাশ্যে ট্রাম্প ও নাটালিকে নিয়ে মন্তব্য করার পর সেই আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। তবে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা থাকলেও, সিএনএনের প্রতিবেদনে তাঁদের সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে কোনো প্রমাণিত ব্যক্তিগত বা রোমান্টিক সম্পর্কের কথা বলা হয়নি। বরং প্রতিবেদনের মূল বিষয় হলো—কীভাবে নাটালি ট্রাম্পের আস্থাভাজন হয়ে উঠলেন এবং হোয়াইট হাউসের ক্ষমতার কেন্দ্রের এতটা কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন।

ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য আরও কয়েক বছর আগে।

গাড়িতে জায়গা না পেয়ে ট্রাঙ্কে উঠে পড়েছিলেন নাটালি

সময়টা ২০২৩ সালের অক্টোবর। নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলা মোকাবিলায় নিউইয়র্কের আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্প টাওয়ারের বাইরে তাঁর গাড়িবহরও প্রস্তুত ছিল।

কিন্তু ঠিক সেই সময় কর্মীদের সামনে অপ্রত্যাশিত একটি সমস্যা দেখা দেয়—গাড়িতে নাটালি হার্পের জন্য কোনো আসন ছিল না।

ঘটনার সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, এ নিয়ে ট্রাম্প টাওয়ারের লবিতে তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়। নাটালি দাবি করেন, ট্রাম্প নিজেই তাঁকে আদালতের শুনানিতে উপস্থিত থাকতে বলেছেন।

কিন্তু গাড়িতে জায়গা না থাকায় তাঁকে বহরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি।

সেখানেই থেমে যাননি নাটালি।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িতে আসন না পেয়েও তিনি ট্রাম্পের গাড়িবহরের একটি এসইউভির পেছনের ট্রাঙ্কে উঠে পড়েন। সাধারণত গাড়ির এই অংশে লাগেজ বা অন্যান্য জিনিসপত্র রাখা হয়।

ঘটনাটি এত দিন প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সিএনএনের হাতে আসা একটি ছবিতে ওই ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ছোট্ট ঘটনাটিই যেন নাটালির কাজের ধরন সম্পর্কে একটি বড় চিত্র তুলে ধরে—ট্রাম্পের কাছাকাছি থাকার ব্যাপারে তাঁর দৃঢ়তা এবং প্রেসিডেন্টের প্রতি তাঁর আনুগত্য কতটা গভীর।

কীভাবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠলেন নাটালি

নাটালি হার্পের উত্থান হঠাৎ করে হয়নি।

২০২২ সালে ট্রাম্পের কর্মী বাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি প্রেসিডেন্টের প্রতি নিজের আনুগত্যের বিষয়টি খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনী প্রচারের সময়ও তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক পদবি ছিল না। তবু তিনি দেশজুড়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘুরেছেন এবং তাঁর বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন।

ট্রাম্পের প্রতি তাঁর এই নিবেদনই ধীরে ধীরে তাঁকে প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ বলয়ের মধ্যে নিয়ে আসে।

নাটালি ট্রাম্পকে নিয়মিত ইতিবাচক সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, চিঠিপত্র এবং প্রশংসামূলক বিভিন্ন লেখা সরবরাহ করতেন। এ কারণে ট্রাম্পের কয়েকজন মিত্র মজা করে তাঁর নাম দিয়েছিলেন ‘মানব প্রিন্টার’।

তিনি শুধু তথ্য সংগ্রহ বা প্রিন্ট করে দেওয়ার কাজই করতেন না। ট্রাম্পের সঙ্গে বাইরের বিশ্বের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

মিত্রদের বার্তা ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দেওয়া, বৈঠকের ব্যবস্থা করা, ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট তৈরিতে সহায়তা করা এবং প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করে প্রকাশিত নিবন্ধের কপি তাঁর হাতে পৌঁছে দেওয়া—এসব কাজের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।

একজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা সিএনএনকে বলেন, তাঁরা কখনো কখনো সরাসরি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন, নাটালি যেন বিষয়টি সম্পর্কে জানেন।

ওই আইনপ্রণেতার ভাষায়, নাটালি সব সময় উত্তর দেন এবং দ্রুত কাজ করেন। এমনকি অনেক সময় তিনি নিজে থেকেই প্রেসিডেন্টের পক্ষে আইনপ্রণেতাদের বিভিন্ন নিবন্ধ, নোট ও তথ্য পাঠান।

ট্রাম্প কেন তাঁকে এত পছন্দ করেন

হোয়াইট হাউসের একজন উপদেষ্টার মতে, ট্রাম্প নাটালির এই অতিরিক্ত মনোযোগ পছন্দ করেন।

এর কারণ হিসেবে ওই উপদেষ্টা বলেন, নাটালি প্রেসিডেন্টের প্রতি পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও অনুগত। তিনি দ্বিধা করেন না এবং সাধারণত ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বা অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন না।

ট্রাম্পের মতো একজন প্রেসিডেন্টের জন্য এ ধরনের আনুগত্য গুরুত্বপূর্ণ—বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধিতা, মামলা, সমালোচনা ও প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তিও নাটালি ও প্রেসিডেন্টের সম্পর্ককে মূলত ‘বাবা-মেয়ের’ সম্পর্কের মতো বলে বর্ণনা করেছেন।

অর্থাৎ বাইরে থেকে তাঁদের নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা তৈরি হলেও, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের বর্ণনায় সম্পর্কটি মূলত গভীর আস্থা ও ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

হোয়াইট হাউসে প্রায় সর্বত্র দেখা যায় নাটালিকে

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর নাটালির উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

ওভাল অফিসে বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর ও অনুষ্ঠানের ভিডিও পর্যালোচনা করে সিএনএন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রায়ই দেখা যায়।

কখনো ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে হাসছেন, কখনো ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় মাথা নেড়ে সম্মতি জানাচ্ছেন—এভাবেই তাঁকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গেছে।

ট্রাম্প জনসভা বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গেলেও তাঁর কাছাকাছি থাকা ছোট কর্মী দলের মধ্যে প্রায়ই নাটালিকে দেখা যায়।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর এই ঘনিষ্ঠ উপস্থিতি শুধু প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বৈঠকেও তাঁর উপস্থিতি অনেক সময় দেখা যায়।

আর এখানেই তৈরি হচ্ছে হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তার অসন্তোষ।

কর্মকর্তাদের একাংশ কেন বিরক্ত

হোয়াইট হাউসের কিছু জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অনেক সময় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করতে চান। কিন্তু তাঁদের কেউ কেউ গিয়ে দেখেছেন, বৈঠকে নাটালিও উপস্থিত রয়েছেন।

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র সিএনএনকে এমন তথ্য জানিয়েছে।

আরেকটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩৫ বছর বয়সী নাটালি তাঁর অবস্থান সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন। তিনি অন্যদের বলেন, তাঁর জবাবদিহির জায়গা মূলত প্রেসিডেন্ট নিজেই।

এই বক্তব্য হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে কাজ করা অনেকের কাছেই বিরক্তিকর।

কারণ, সাধারণত প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে দায়িত্ব ও ক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো থাকে। কে কার কাছে জবাবদিহি করবেন, কে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন এবং কে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখবেন—এসব বিষয় নির্দিষ্ট থাকে।

নাটালির ক্ষেত্রে সেই আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে তাঁর প্রভাব তৈরি হওয়াই কিছু কর্মকর্তার অস্বস্তির কারণ বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে চাননি। তাঁর দাবি, নাটালি অধিকাংশ সহকর্মীর সঙ্গে ভালোভাবেই কাজ করেন, বিভিন্ন বিবৃতি তৈরিতে সহায়তা করেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গলও তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি নাটালিকে ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দলের অন্যতম অনুগত ও কঠোর পরিশ্রমী সহকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

‘মানব প্রিন্টার’ থেকে প্রেসিডেন্টের আস্থাভাজন

নাটালির দ্রুত উত্থান বোঝার জন্য তাঁর কাজের ধরনটি গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনে প্রশংসা ও ইতিবাচক সংবাদ সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নাটালি নিয়মিত এসব তথ্য সংগ্রহ করে প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছে দিতেন।

এ কারণে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা তাঁকে ‘মানব প্রিন্টার’ বলে ডাকতেন।

ট্রাম্প নিজেও তাঁর দ্রুত কাজ করার ক্ষমতায় মুগ্ধ বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। কোনো তথ্য বা নথি খুঁজে দিতে বলার পর দ্রুত তা হাজির করলে ট্রাম্প তাঁর মিত্রদের কাছে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, ‘নাটালি বড্ড দ্রুত কাজ করেন।’

এই দ্রুততা ও আনুগত্যই তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে বলে মনে করেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা।

সিনেটর অসফের মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক

নাটালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত ডেমোক্রেটিক সিনেটর জন অসফের একটি বক্তব্য থেকে।

চলতি সপ্তাহে ট্রাম্পকে আক্রমণ করে দেওয়া এক ভাইরাল বক্তব্যে জর্জিয়ার এই সিনেটর সরাসরি নাটালির নাম উল্লেখ করেন।

কাতারের আমিরের উপহার দেওয়া একটি বড় উড়োজাহাজকে ইঙ্গিত করে অসফ বলেন, ট্রাম্প সেখানে নাটালির সঙ্গে ভ্রমণ করেন।

গত জুলাইয়ে ইরানের হুমকির মধ্যে ট্রাম্প একটি ছোট উড়োজাহাজে করে গোপনে তুরস্ক ত্যাগ করার সময় যে অল্পসংখ্যক সহযোগী তাঁর সঙ্গে ছিলেন, নাটালির উপস্থিতি নিয়েই মূলত ইঙ্গিত করেন অসফ।

তাঁর এই মন্তব্য দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।

হোয়াইট হাউস এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। অসফকে বিভিন্নভাবে আক্রমণ করে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়। তাঁকে ‘লজ্জাজনক’, ‘সস্তা নাটুকে’ এবং ‘দুর্বল হেরে যাওয়া ব্যক্তি’ বলেও আক্রমণ করা হয়।

ডেমোক্র্যাটিক সিনেটরের বক্তব্যের পর ট্রাম্পের সঙ্গে নাটালির সম্পর্কও নতুন করে জনআলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

তবে নাটালির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে যেসব ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। বরং তাঁদের সম্পর্ক সম্পর্কে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা যে বর্ণনা দিয়েছেন, তাতে এটি মূলত প্রেসিডেন্টের প্রতি নাটালির আনুগত্য ও ব্যক্তিগত আস্থার সম্পর্ক হিসেবেই উঠে এসেছে।

ট্রাম্পের পাশে থাকার গল্প আরও পুরোনো

নাটালির ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠার পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।

সাবেক ডানপন্থী টেলিভিশন উপস্থাপিকা হিসেবে তিনি আগে থেকেই রক্ষণশীল রাজনৈতিক পরিসরে পরিচিত ছিলেন। পরে ট্রাম্পকে তাঁর জীবন রক্ষার কৃতিত্ব দেওয়ার পর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ শুরু করেন।

এরপর ধীরে ধীরে তাঁর ভূমিকা বদলাতে থাকে।

প্রথমে ছিলেন একজন অনুগত সহযোগী। পরে ট্রাম্পের তথ্য ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এরপর এমন একজন ব্যক্তি হয়ে ওঠেন, যাঁকে প্রেসিডেন্টের আশপাশে দিনের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দেখা যায়।

এই ধারাবাহিক উত্থানই এখন প্রশ্ন তৈরি করেছে—নাটালির প্রকৃত প্রভাব কতটা?

হোয়াইট হাউসে তাঁর প্রভাব কতটা?

এই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া কঠিন।

কারণ নাটালির হাতে হোয়াইট হাউসের কোনো বড় আনুষ্ঠানিক পদ রয়েছে কি না, কিংবা তিনি প্রশাসনের কোন সিদ্ধান্তে আনুষ্ঠানিক ভূমিকা রাখেন—এসবের অনেক কিছুই প্রকাশ্যে স্পষ্ট নয়।

তবে বিভিন্ন সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ এবং তাঁর কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে একটি অনানুষ্ঠানিক প্রভাব তৈরি করে দিয়েছে।

বিশেষ করে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত পছন্দ, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং মিত্রদের বার্তা দ্রুত প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এ ধরনের অবস্থান আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার চেয়েও কখনো কখনো বেশি প্রভাবশালী হতে পারে। কারণ প্রেসিডেন্ট কী তথ্য দেখছেন, কার কথা শুনছেন এবং কোন বিষয়টি কখন তাঁর সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে—এসবই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।

তবে নাটালি নিজে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন বা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন—এমন প্রমাণ সিএনএনের প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

নতুন বিতর্কে কি বদলাবে তাঁর অবস্থান?

ওয়েস্ট উইংয়ে নাটালির অস্বাভাবিক প্রভাব নিয়ে যারা আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন, তারাও নিশ্চিত নন—সাম্প্রতিক বিতর্ক তাঁর অবস্থানকে কতটা প্রভাবিত করবে।

কারণ ট্রাম্পের কাছে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আনুগত্য।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের মতে, নাটালি প্রেসিডেন্টের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত এবং তাঁর মনোযোগ ধরে রাখার জন্য যে ধরনের কাজ করেন, সেটিই ট্রাম্পের কাছে মূল্যবান।

অন্যদিকে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে কাজ করা কর্মকর্তাদের জন্য তাঁর উপস্থিতি কিছুটা অস্বস্তিকর।

এই দ্বৈত বাস্তবতাই নাটালির অবস্থানকে অনন্য করে তুলেছে—তিনি একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং প্রশাসনের কিছু অংশের কাছে বিতর্কিত।

ট্রাম্পের বিতর্কিত রাজনৈতিক পরিসর

নাটালিকে ঘিরে এই আলোচনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প নিজেও একের পর এক বিতর্কের মুখোমুখি হচ্ছেন।

চলতি বছরের শুরুতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাকে জঙ্গলের বানর হিসেবে দেখানো একটি বর্ণবাদী ভিডিও ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন এবং পরে সেটি মুছে দেন।

ওই পোস্ট ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীদের তখন সেটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল।

এই ঘটনাও দেখিয়েছে, ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড এবং তাঁর চারপাশের সহযোগীদের ভূমিকা কতটা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল।

সেই পরিবেশে প্রেসিডেন্টের খুব কাছাকাছি থাকা নাটালির মতো ব্যক্তিদের কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবেই বেশি নজরে পড়ছে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি সম্পর্কের নয়, ক্ষমতার

নাটালি হার্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক গুঞ্জনকে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বিষয়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি আড়ালে পড়ে যেতে পারে।

মূল প্রশ্ন হলো—একজন আনুষ্ঠানিকভাবে খুব বড় পদে না থাকা ব্যক্তি কীভাবে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর নেতার এত কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন এবং প্রেসিডেন্টের কাছে তথ্য, বার্তা ও মতামত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করলেন?

২০২৩ সালের সেই ঘটনা—গাড়িতে জায়গা না পেয়ে ট্রাঙ্কে উঠে ট্রাম্পের আদালতযাত্রার বহরে থাকার চেষ্টা—হয়তো এই প্রশ্নের একটি প্রতীকী উত্তর দেয়। নাটালির কাজের ধরন সম্পর্কে যাঁরা জানেন, তাঁদের কাছে সেটি ছিল তাঁর দৃঢ়তা ও আনুগত্যেরই বহিঃপ্রকাশ।

আজ হোয়াইট হাউসে তাঁর অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। ট্রাম্পের পাশে তিনি প্রায় সর্বত্র উপস্থিত। তাঁর হাতে প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছানোর সরাসরি পথ রয়েছে। আর প্রেসিডেন্টও তাঁর এই আনুগত্য ও দ্রুত কাজ করার ক্ষমতাকে মূল্য দেন বলে জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠরা।

ফলে তাঁকে ঘিরে গুঞ্জনের চেয়েও বড় বাস্তবতা হলো—ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের হোয়াইট হাউসে নাটালি হার্প এখন এমন একজন অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতাধর সহযোগী, যাঁর উপস্থিতি প্রশাসনের ভেতরে যেমন নজর কাড়ছে, তেমনি প্রেসিডেন্টের বাইরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স