ঢাকা

ইরান যুদ্ধের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে উঠে আসছেন বিতর্কিত সামরিক জেনারেল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ভাহিদি ১৯৫৮ সালে শিরাজ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। যুদ্ধ ও পাশ্চাত্যের সঙ্গে সংঘাতের মধ্য দিয়েই তাঁর আদর্শ গড়ে উঠেছে। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর নতুন শাসনব্যবস্থার শুরুতেই তিনি এর সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৮১ সালে তাঁকে গোয়েন্দা বিভাগের উপপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    ইরানের মাটিতে যদি আর কোনো হামলা হয়, তবে পরিস্থিতি আর সীমিত আঞ্চলিক যুদ্ধে আটকে থাকবে না। আগেই এ আগুন জ্বালানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। এবার তা দাউ দাউ করে জ্বলবে ও সব সীমানা ছাড়িয়ে যাবে।

আহমাদ ভাহিদি, ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল

ইরানের সংবাদমাধ্যমের তথ্য, জেনারেল ভাহিদি ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। সিট্রিনোভিচ বলেন, ‘আইআরজিসিই তাঁকে গড়ে তুলেছে।’ আইআরজিসিকে বিদেশি ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে একটি ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলায় ৮৫ জন নিহত হন। এ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইন্টারপোল তাঁকে খুঁজছে। এ ছাড়া আশির দশকে ‘ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি’র সময় ইসরায়েলিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের খবর পাওয়া যায়। এটি ছিল ইসরায়েল-সমর্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন পরিকল্পনা। এর অধীন ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে সেই অর্থ নিকারাগুয়ার কমিউনিস্টবিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘কন্ট্রা’র তহবিলে দেওয়া হতো।

আইআরজিসির অভিজাত শাখা কুদস ফোর্সের প্রথম কমান্ডার ছিলেন ভাহিদি। বছরের পর বছর ধরে তিনি আইআরজিসি ও ইরানি সেনাবাহিনীর উপপ্রধান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২২ সালে ইরানে ইসলামি পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ২২ বছর বয়সী মাসা আমিনিকে গ্রেপ্তার করেছিল দেশটির নীতি পুলিশ। পরে পুলিশি হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়। এর জেরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তা কঠোরভাবে দমন করা হয়। সহিংস পন্থায় বিক্ষোভ দমনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় ভাহিদির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ তখন জানিয়েছিল, ‘হিজাব পরার নিয়ম ভাঙলে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের শাস্তি দেবে বলে ইরানি নারীদের সতর্ক করেছিলেন ভাহিদি।’ তারা আরও জানায়, তিনি প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের হুমকি দিয়েছেন এবং চলমান বিক্ষোভ দমনে পুলিশের নিষ্ঠুর পদক্ষেপের সাফাই গেয়েছেন।

ভাহিদির ওপরেও এখন বিপদের কালো মেঘ ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাঁর বেশ কয়েকজন পূর্বসূরি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিও রয়েছেন। সিট্রিনোভিচ বলেন, ‘তিনি (ভাহিদি) পরোয়ানাভুক্ত একজন ব্যক্তি। তবে তাঁকে কোনোভাবেই হিসাবের বাইরে রাখার সুযোগ নেই।’

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স