নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ১৪ দিন বয়সী এক নবজাতকের মরদেহ পানি সংরক্ষণের প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা ফাতেমা বেগমকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মীরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট এলাকায় একটি ড্রাম থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নবজাতকটি ওই এলাকার বাসিন্দা সৌরভ হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে সৌরভ ও ফাতেমার বিয়ে হয়। চলতি মাসের ৪ আগস্ট তাদের ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। সোমবার সন্ধ্যার পর শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে ফাতেমার কাছে জানতে চাইলে তিনি একেক সময় একেক ধরনের কথা বলেন। কখনো দাবি করেন, শিশুটিকে কেউ নিয়ে গেছে, আবার কখনো বলেন, ‘জিন’ তাকে নিয়ে গেছে।
তার কথাবার্তায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে শিশুটির সন্ধানে খোঁজ শুরু করা হয়। পরে বৃষ্টির পানি রাখার একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়।
পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে ফাতেমা শিশুটিকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সন্তানটি সারাদিন কান্নাকাটি করত এবং এতে তিনি ঘুমাতে পারতেন না। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শিশুটিকে ড্রামের পানিতে ফেলে দেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের সদস্যদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।