ঢাকা

পশ্চিমবঙ্গে ফলতা আসনে পুনর্নির্বাচনে জিতলেন দেবাংশু পান্ডা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ–এর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ফলতা বিধানসভা আসন–এর পুনর্নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস–এর প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান ভোটের হিসাবে চতুর্থ স্থানে নেমে গেছেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত ২১ মে অনুষ্ঠিত পুনর্নির্বাচনের ফলাফল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, বিজেপির প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬৬ ভোট।

অন্যদিকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএম)–এর প্রার্থী শম্ভু কুর্মি এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস–এর প্রার্থী আবদুর রাজ্জাক মোল্লা সমান সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। দুজনের ঝুলিতেই গেছে ৪০ হাজার ৬৪৫ ভোট করে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান পেয়েছেন মাত্র ৭ হাজার ৭৮৩ ভোট, যা তাঁকে চতুর্থ স্থানে ঠেলে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের শক্ত অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এই ফলাফলকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ওই নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সন্ত্রাস ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণ বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়।

পরে নির্বাচন কমিশন ২১ মে পুনর্নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করে। পুনর্নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের নাটকীয়ভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা। তিনি দাবি করেছিলেন, রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী ফলতা অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন এবং সেই উন্নয়ন পরিকল্পনার স্বার্থেই তিনি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

তিনি ওই সময় বলেছিলেন, এই উন্নয়ন উদ্যোগের ফলে ফলতা ‘সোনার ফলতায়’ পরিণত হবে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যালটপত্রে তাঁর নাম থেকে যাওয়ায় ভোটারদের দেওয়া ভোট তাঁর প্রতীকেই পড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতা উপনির্বাচনের এই ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে বিজেপির বিপুল জয় এবং তৃণমূলের ভরাডুবি আগামী রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

একই সঙ্গে পুনর্নির্বাচনে সিপিএম ও কংগ্রেস প্রার্থীর সমান ভোট পাওয়া বিরল রাজনৈতিক ঘটনারও জন্ম দিয়েছে। ফলে ফলতা উপনির্বাচনের ফলাফল এখন শুধু স্থানীয় নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনেই আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স