ঢাকা

সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাক উল্টে ১৫ প্রাণহানি, সমিতির ক্ষতিপূরণ দাবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
টাঙ্গাইলে যমুনা সেতুর কাছে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন খেতমজুরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি। একই সঙ্গে সংগঠনটি নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

আজ সোমবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ফজলুর রহমান, কার্যকরী সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, দেশের দরিদ্র ও অসহায় খেতমজুরেরা জীবিকার তাগিদে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কাজের জন্য যাতায়াত করেন। খরচ কমাতে বাধ্য হয়ে অনেক সময় তাঁরা ট্রাক বা ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে করে যাতায়াত করেন, যা দীর্ঘদিন ধরেই শ্রমজীবী মানুষের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করছে।

তাঁরা আরও বলেন, কাজ শেষে ঈদকে সামনে রেখে বাড়ি ফেরার পথে যমুনা সেতুর কাছে ট্রাক উল্টে ১৫ জন খেতমজুরের করুণ মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক ঘটনা। এই মৃত্যুর দায় কোনোভাবেই এড়ানো যায় না।

বিবৃতিতে অতীতের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, এর আগেও ধান কাটার মৌসুমে নোয়াখালী যাওয়ার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাক দুর্ঘটনায় বহু খেতমজুরের মৃত্যু হয়েছিল। তখন শ্রমজীবী মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

সংগঠনটি দাবি করে, শ্রমজীবী মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর তদারকি ও ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি ছিল, কিন্তু বাস্তবে সেই উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। ট্রাকে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত দীর্ঘদিন ধরে চললেও যথাযথ নজরদারি না থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।

উল্লেখ্য, সোমবার ভোরে যমুনা সেতুর কাছে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন খেতমজুর নিহত হন। যাতায়াত ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে তাঁরা ওই ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা ও শ্রমজীবী মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স