ঢাকা

চন্দ্রা ও কালিয়াকৈর পয়েন্টে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মঙ্গলবার সকাল থেকেই গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড়, কালিয়াকৈর এবং মৌচাক এলাকায় মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের চাকা থমকে যেতে দেখা যায়। সড়ক ও হাইওয়ে পুলিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মহাসড়কের বেশিরভাগ লেনজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক ও বড় কাভার্ডভ্যানগুলোর আধিপত্য থাকায় যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাসগুলো দীর্ঘ সময় ধরে একই স্থানে আটকে থাকছে। কোনো কোনো পয়েন্টে যানবাহনের এই সারি কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ রূপ নিয়েছে।

যাত্রী দুর্ভোগ ও যানজটের মূল কারণসমূহ
ভুক্তভোগী ঘরমুখো যাত্রীদের অভিযোগ, স্বাভাবিক সময়ে যে পথ অতিক্রম করতে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা সময় লাগত, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে তিন থেকে চার ঘণ্টারও বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে। মহাসড়কজুড়ে তীব্র যানজট ও স্থবিরতার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণকে দায়ী করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা:

অতিরিক্ত ট্রাকের চাপ: বাসের তুলনায় সড়কে অতিরিক্ত মালবাহী ট্রাকের অবাধ চলাচল।

ফিটনেসবিহীন বিকল যানবাহন: লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন হঠাৎ সড়কের মাঝখানে বিকল হয়ে পড়া।

বেপরোয়া ওভারটেকিং: দ্রুত যাওয়ার প্রতিযোগিতায় চালকদের উল্টো লেনে চলে যাওয়া এবং এলোমেলো গাড়ি পার্কিং।

রাতের শিফটে বাড়ছে জটিলতা
মহাসড়কে চলাচলকারী বাস চালকেরা জানান, দিনের চেয়ে রাতের বেলা এই ভোগান্তি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। শিল্পকারখানার ভারী মালামাল পরিবহনকারী ট্রাকগুলো রাতের দিকে বেশি চলাচল করায় চন্দ্রা মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারগুলোতে জটলা তৈরি হচ্ছে। এর ওপর আবার অনেক ট্রাক চালক নিয়ম বহির্ভূতভাবে সড়কের ওপর বা পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখায় অন্যান্য লেনের গতি সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা ও আশ্বাস
মহাসড়কের সার্বিক নিরাপত্তা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাওগাতুল আলম জানান, ঈদে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, অতিরিক্ত গাড়ির সংখ্যার কারণে সাময়িকভাবে ধীরগতি তৈরি হলেও পুলিশ দ্রুততম সময়ে বিকল গাড়ি রাস্তা থেকে সরিয়ে যানজট নিরসনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স