ঢাকা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় নতুন মোড়, যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরান–এর দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে রাখার কাজে ব্যবহৃত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আত্মরক্ষা” এবং মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

‘আত্মরক্ষা’ বলছে ওয়াশিংটন

সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, যুদ্ধবিরতির নীতি বজায় রেখেই এবং সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়ে মার্কিন বাহিনী এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর দাবি, ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের রক্ষা করাই এই হামলার উদ্দেশ্য।

ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি বাহিনীর কিছু কার্যক্রম—বিশেষ করে সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি—আঞ্চলিক নৌ নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছিল।

বন্দর আব্বাসের কাছে বিস্ফোরণ

বন্দর আব্বাস–এর কাছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি–সংলগ্ন এলাকায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। এলাকাটিতে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি রয়েছে।

হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন বলে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইরান–এর প্রশাসনও এ ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

শান্তি আলোচনার মাঝেই নতুন উত্তেজনা

হামলার সময়টিকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কারণ, এরই মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই বলেছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি থাকলেও এখনই কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই।

অন্যদিকে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে দুই পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে পরে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে মধ্যস্থতাকারীদের তাড়াহুড়া না করার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত এলাকায় এই ধরনের হামলা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও নৌ-নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে কি না, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স