ঢাকা

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অবস্থান, সহজ হবে কি গ্রিন কার্ড

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসায় অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়ায় কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, যেসব আবেদনকারীকে মার্কিন অর্থনীতির জন্য “লাভজনক” বা জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদন করতে পারবেন।

এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীকে নতুন নিয়ম অনুযায়ী নিজ দেশে ফিরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করতে নাও হতে পারে।

আগের ঘোষণায় তৈরি হয়েছিল উদ্বেগ

সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকরা আর দেশটির ভেতরে থেকে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পরিবর্তনের (অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস) আবেদন করতে পারবেন না। বরং তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফিরে গিয়ে সেখানকার মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

প্রশাসনের দাবি ছিল, বৈধ অভিবাসনব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও কার্যকর করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঘোষণার পরপরই অভিবাসন আইনজীবী, মানবাধিকার সংগঠন এবং অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও সমালোচনা শুরু হয়।

সমালোচকদের আশঙ্কা ছিল, এই নীতি কার্যকর হলে বহু পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বহু অভিবাসী চাকরি ও পেশাগত সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।

কারা সুবিধা পেতে পারেন

ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার জানিয়েছেন, যেসব আবেদনকারীকে মার্কিন অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক এবং জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে বিবেচনা করা হবে, তাঁরা বিদ্যমান প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই আবেদন করতে পারবেন।

তবে অন্যদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতিভেদে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কাহলারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং অর্থনৈতিক অবদান ও জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

‘আগে সিদ্ধান্ত, পরে সংশোধন’

ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান পরিবর্তনকে কৌশলগত পিছু হটা হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।

টেক্সাসের হিউস্টনভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী স্টিভেন ব্রাউন প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, “আমরা এ প্রশাসনের ক্ষেত্রে সব সময় দেখেছি যে তারা আগে পদক্ষেপ নেয়, পরে ভেবে দেখে। আমি একে বলি—আগে গুলি ছোড়া, পরে লক্ষ্য ঠিক করা।”

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন প্রথমে এমন একটি ঘোষণা দেয়, যা বড় শিরোনাম তৈরি করে। পরে যখন তারা বুঝতে পারে যে সিদ্ধান্তটি বাস্তবতায় জটিলতা তৈরি করছে, তখন কিছুটা নমনীয় অবস্থানে ফিরে আসে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ

শরণার্থী ও অভিবাসীদের সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ‘এইচআইএএস’ সতর্ক করে বলেছে, নতুন নীতির কারণে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি, নির্যাতিত নারী এবং অবহেলিত শিশুদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সংস্থাটি বলছে, এসব ব্যক্তিকেও যদি স্থায়ী বসবাসের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য করা হয়, তবে তারা নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

আইনি চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনজীবীদের সংগঠন এআইএলএ (American Immigration Lawyers Association) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, বহু বছর ধরে কার্যকর থাকা অভিবাসন নীতি কেবল একটি প্রশাসনিক মেমোর মাধ্যমে পরিবর্তন করার চেষ্টা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

সংগঠনটির মতে, এমন পদক্ষেপ প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এবং আদালতে তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

অনিশ্চয়তায় অভিবাসীরা

নতুন এই অবস্থানের ফলে কিছু আবেদনকারীর জন্য সুযোগ তৈরি হলেও সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতি ক্রমাগত পরিবর্তিত হওয়ায় অস্থায়ী ভিসাধারী বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা, শিক্ষার্থী ভিসা এবং পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের অনেকেই এখন তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

একই সঙ্গে এই নীতি কতটা বাস্তবায়িত হবে এবং আদালতে টিকবে কি না, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স