ঢাকা

রসাটমের প্রতিযোগিতায় অংশ নিন, সুযোগ পেতে পারেন উত্তর মেরু সফরের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক গবেষণার প্রতি আগ্রহী কিশোর শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় একটি সুযোগ নিয়ে এসেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি সংস্থা Rosatom। সংস্থাটির আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ (Icebreaker of Knowledge) প্রতিযোগিতার সপ্তম আসরের জন্য আবেদন গ্রহণ চলছে। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২২টি দেশের ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা উত্তর মেরু অভিযানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতার প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দেশ থেকে একজন করে বিজয়ী নির্বাচিত করা হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের আগস্টে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী পারমাণবিক আইসব্রেকার জাহাজ 50 Years of Victory-এ চড়ে উত্তর মেরু অভিযানে অংশ নেবে। প্রায় ১০ দিনের এই বিশেষ অভিযানে শিক্ষার্থীরা আর্কটিক অঞ্চলের পরিবেশ, জলবায়ু, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে।

বিজ্ঞান ও অভিযানের সমন্বয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ কর্মসূচি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী ও বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে। অভিযানের সময় অংশগ্রহণকারীরা বিজ্ঞানী, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময়, গবেষণামূলক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মশালায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা, নেতৃত্বগুণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়।

গত ছয়টি আসরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চার শতাধিক শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় উত্তর মেরু অভিযানে অংশ নিয়েছে। প্রতিবছরই এ কর্মসূচি তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে আয়োজকদের দাবি।

তিন ধাপে হবে নির্বাচন

প্রতিযোগিতার নির্বাচনপ্রক্রিয়া তিনটি ধাপে সম্পন্ন হবে।

প্রথম ধাপে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে এবং ৩০টি প্রশ্নের একটি বিজ্ঞানভিত্তিক কুইজে অংশ নিতে হবে। কুইজে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং সাধারণ জ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা বিশেষজ্ঞদের পরিচালিত ওয়েবিনারে অংশ নেবে। এসব ওয়েবিনারে পারমাণবিক প্রযুক্তি, আর্কটিক গবেষণা, নিরাপদ নৌ চলাচল, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ এবং বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা করা হবে। ওয়েবিনার শেষে অংশগ্রহণকারীদের নির্ধারিত অ্যাসাইনমেন্ট ও মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

চূড়ান্ত বা তৃতীয় ধাপে প্রতিটি দেশ থেকে নির্বাচিত সেরা ১০ জন ফাইনালিস্ট নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের ওপর এক মিনিটের ভিডিও উপস্থাপন জমা দেবে। এই উপস্থাপনার ভিত্তিতে প্রতিটি দেশের চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে।

আবেদন চলছে, দ্রুত নিবন্ধনের আহ্বান

আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন গ্রহণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ৩ জুন ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম জুন মাসেই ঘোষণা করা হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্য

রসাটমের সহায়তায় পরিচালিত এই আন্তর্জাতিক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পারমাণবিক জ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি করা। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও ক্যারিয়ার গঠনে অনুপ্রাণিত করাও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করছে সংস্থাটি। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, আর্কটিক গবেষণা এবং টেকসই প্রযুক্তি বিষয়ে তরুণদের সচেতন করে তুলতে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ

বাংলাদেশ থেকেও এ প্রতিযোগিতায় আগ্রহ বাড়ছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আসরে বাংলাদেশ থেকে রেকর্ড ৮৪১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল। তাদের মধ্য থেকে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ চূড়ান্তভাবে উত্তর মেরু অভিযানের জন্য নির্বাচিত হন।

এ সাফল্য দেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আগ্রহ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উত্তর মেরুর মতো বিশ্বের অন্যতম দুর্গম অঞ্চলে সরাসরি বৈজ্ঞানিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন বিরল অভিজ্ঞতা, তেমনি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও গবেষণার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিযোগিতা, আবেদনপদ্ধতি ও অন্যান্য তথ্য জানতে আয়োজকদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স