দেশে জ্বালানি তেলের দাম বারবার বাড়ানো জনগণের সঙ্গে “প্রতারণা” এবং “জুলুম” বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মঙ্গলবার (৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট সদর এলাকায় ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যার শিকার চার বছরের শিশুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এক মাসের ব্যবধানে পুনরায় দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ
শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, এক মাসের ব্যবধানে জ্বালানি তেলের দাম আবারও পাঁচ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তাঁর মতে, এ বিষয়ে বাজেট অধিবেশনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সরকার তা করেনি।
তিনি বলেন, “সরকার তড়িঘড়ি করে জনগণকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।”
“দেশ ভালো নেই”—রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যে প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ পরিবর্তনের আশা করেছিল, বাস্তবে পরিস্থিতি তার বিপরীত দিকে গেছে।
তবে তিনি একই সঙ্গে জানান, “যে স্রোত যতই ভয়াবহ হোক, সেই স্রোতের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”
সিলেটের চার বছরের শিশুর ঘটনায় ক্ষোভ ও বিচার দাবি
এর আগে তিনি সিলেটের চার বছরের শিশু হত্যার ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তিনি ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, ঘটনার ২৮ দিন পার হলেও এখনো বিচারপ্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি দ্রুত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল এবং বিচার সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
এ প্রসঙ্গে তিনি অতীতের একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, একই ধরনের অপরাধের ঘটনায় সরকার যে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, সিলেটের ঘটনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘোষণা দেওয়া উচিত।
সামাজিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের আহ্বান
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যেখানেই মানুষ নির্যাতনের শিকার হবে, সেখানেই তার দল পাশে থাকবে। নির্যাতিত ব্যক্তি কোন দল, মত বা ধর্মের—তা বিবেচ্য নয়, তিনি তাদের মানুষ হিসেবেই দেখেন।
তিনি আরও বলেন, সমাজে লম্পট ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের অপরাধ বাড়তেই থাকবে।
তার ভাষায়, “সরকার জনগণের পাহারাদার, কিন্তু তারা জনগণকে ভাড়াটিয়া মনে করছে।”
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব হিসেবে অপরাধীদের খুঁজে বের করা এবং আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব হিসেবে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
এছাড়া তিনি দাবি করেন, সিলেটের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি একা নন, তার পরিবারের সদস্যরাও এতে জড়িত থাকতে পারে—তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
শিশুর হত্যাকাণ্ড: ঘটনাপ্রবাহ
পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের ওই চার বছরের শিশুটি গত ৬ মে নিখোঁজ হয়। দুই দিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবার কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
১১ মে রাতে জাকির হোসেন (৩০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, ধর্ষণচেষ্টার সময় শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ স্যুটকেসে ভরে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং শিশু নির্যাতন–হত্যার মতো ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের জ্বালানি নীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সমালোচনা সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এ ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ভবিষ্যতে আরও তীব্র হতে পারে।