গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রমে প্রথম পর্যায়ের ‘বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দক্রম’ ও ‘সাবজেক্ট চয়েস’-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ জুন) দুপুরে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশের মাধ্যমে ভর্তির পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম শুরু হয়।
ফল প্রকাশের পর মনোনীত শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু সময়সীমা ও নির্দেশনা নির্ধারণ করেছে গুচ্ছ ভর্তি কমিটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক ভর্তি সম্পন্ন না করলে কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থীরা শুধু সংশ্লিষ্ট বিভাগ নয়, গুচ্ছভুক্ত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই পরবর্তী সময়ে ভর্তির সুযোগ হারাতে পারেন।
৭ জুন থেকে শুরু প্রাথমিক ভর্তি
প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে মনোনীত শিক্ষার্থীদের আগামী ৭ জুন দুপুর ১২টা থেকে ১০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে প্রাথমিক ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
এ সময়ের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত ৫ হাজার টাকা প্রাথমিক ভর্তি ফি অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। ফি পরিশোধের মাধ্যমেই প্রাথমিক ভর্তি নিশ্চিত হবে।
ভর্তি কমিটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রাথমিক ভর্তি সম্পন্ন না করলে ওই শিক্ষার্থীকে পরবর্তী কোনো মেধাতালিকা, মাইগ্রেশন বা কোটাভিত্তিক ভর্তি কার্যক্রমে বিবেচনা করা হবে না।
৮ থেকে ১১ জুন কাগজপত্র জমা
অনলাইনে প্রাথমিক ভর্তি সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীদের ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে গুচ্ছভুক্ত যেকোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কাগজপত্র জমা দেওয়া যাবে।
কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীদের অবশ্যই তাদের জিএসটি রোল নম্বর উল্লেখ করতে হবে এবং নির্ধারিত সব নথি সঙ্গে রাখতে হবে।
প্রাথমিক ভর্তির পরও কেন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জমা?
ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শুধু অনলাইনে ৫ হাজার টাকা জমা দিলেই ভর্তি সম্পন্ন বলে গণ্য হবে না। প্রাথমিক ভর্তি নিশ্চিত করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল সনদ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে।
যদি কোনো শিক্ষার্থী অনলাইনে ভর্তি ফি পরিশোধ করেন, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে তার ভর্তি বাতিল হয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি গুচ্ছভুক্ত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আর বিবেচিত হবেন না।
ভর্তির সুযোগ হারাতে পারেন যেসব কারণে
গুচ্ছ ভর্তি কমিটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে সতর্ক করেছে।
প্রাথমিক ভর্তি না করলে সুযোগ শেষ
কোনো শিক্ষার্থী প্রথমবার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট বিভাগে নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি প্রাথমিক ভর্তি সম্পন্ন না করেন, তাহলে পরবর্তী সময়ে তিনি গুচ্ছভুক্ত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বিবেচিত হবেন না।
এ নিষেধাজ্ঞা শুধু সাধারণ মেধাতালিকার ক্ষেত্রেই নয়, কোটাভিত্তিক ভর্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
ভর্তি বাতিল করলে ফিরতে পারবেন না
কোনো আবেদনকারী যদি নিজ উদ্যোগে প্রাথমিক ভর্তি বাতিল করেন, তাহলে পরবর্তীতে গুচ্ছভুক্ত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকবে না।
অর্থাৎ ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্টপ মাইগ্রেশন করলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত
গুচ্ছ ভর্তি ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় মাইগ্রেশনের সুযোগ থাকলেও একবার কোনো বিভাগে ভর্তি স্থায়ী বা ‘স্টপ মাইগ্রেশন’ সম্পন্ন করলে পরে তা পুনরায় চালু করা যাবে না।
ফলে শিক্ষার্থীরা যদি কোনো বিভাগে চূড়ান্তভাবে অবস্থান নিশ্চিত করেন, তাহলে পরবর্তী সময়ে উচ্চতর পছন্দক্রমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানান্তরের সুযোগ হারাবেন।
প্রাথমিক ভর্তিতে জমা দিতে হবে যেসব কাগজপত্র
প্রাথমিক ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের নিম্নোক্ত নথিপত্র জমা দিতে হবে—
এসএসসি/সমমান পরীক্ষার মূল নম্বরপত্র;
এইচএসসি/সমমান পরীক্ষার মূল নম্বরপত্র;
জিএসটি ভর্তি পরীক্ষার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরিত অ্যাডমিট কার্ড;
একটি A4 সাইজের খাম, যার ওপর আবেদনকারীর জিএসটি রোল নম্বর উল্লেখ থাকবে;
অনলাইনে প্রাথমিক ভর্তি ফি পরিশোধের পেমেন্ট স্লিপের এক কপি।
ভর্তি-সংক্রান্ত নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ার পরামর্শ
ভর্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুচ্ছ ভর্তি ব্যবস্থায় নির্ধারিত সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থী কেবল সময়মতো ফি পরিশোধ না করা, কাগজপত্র জমা দিতে দেরি করা কিংবা মাইগ্রেশন সংক্রান্ত নিয়ম না বোঝার কারণে ভর্তির সুযোগ হারান।
তাই মনোনীত শিক্ষার্থীদের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশিকা ও ভর্তি বিজ্ঞপ্তি বিস্তারিতভাবে পড়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ের ফল প্রকাশের মাধ্যমে এখন গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক ভর্তি, কাগজপত্র যাচাই এবং পরবর্তী মাইগ্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারণ করা হবে।