ঢাকা

অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


অসদাচরণ, দায়িত্বে অবহেলা ও অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে পুলিশের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান এবং গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

এস এম মেহেদী হাসান

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ডিএমপির ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন এস এম মেহেদী হাসান।

তাঁর স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় এবং ই-মেইলের মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কাজে যোগ দেননি। কর্তৃপক্ষের মতে, দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি সরকারি দায়িত্ব পালনে গুরুতর অবহেলা এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণের মধ্যে পড়ে।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৯ জুন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগনামা ও অভিযোগের বিবরণী দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জবাব দেননি এবং সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।

অভিযোগ তদন্তের জন্য ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এরপর চলতি বছরের ৪ জুন তাঁকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি তাতেও কোনো জবাব দেননি। পরে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সরকারি কর্মকমিশনের মতামত চাওয়া হলে কমিশন বরখাস্তের শাস্তি দেওয়ার পক্ষে মত দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে মেহেদী হাসানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী

অন্য প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গাজীপুরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এ দায়িত্ব পালনের সময় মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে ছুটিতে যান। চিকিৎসক তাঁকে দুই মাস বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ছুটি শেষে ১১ এপ্রিল তাঁর কর্মস্থলে ফেরার কথা থাকলেও তিনি আর কাজে যোগ দেননি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কর্তৃপক্ষ সফল হয়নি। পরবর্তী সময়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় একাধিক নোটিশ পাঠানো হলেও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্বে গুরুতর অবহেলা, অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ আনা হয়।

বিভাগীয় মামলার অংশ হিসেবে তাঁকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জবাব দেননি এবং সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।

অভিযোগ তদন্তে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেওয়া হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

পরে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রেখে সরকারি কর্মকমিশনের মতামত নেওয়া হয়। কমিশনও তাঁকে বরখাস্তের শাস্তি দেওয়ার পক্ষে মত দেয়।

এর ভিত্তিতে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে রহমত উল্লাহ চৌধুরীকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স