ঢাকা

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের স্মরণীয় জয়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি অপেক্ষার পর অবশেষে আবারও অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বাদ পেল বাংলাদেশ। মিরপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৮৬ রানের দাপুটে জয়ে টাইগাররা ফিরিয়ে আনল ২১ বছর আগের সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি, যখন প্রথমবারের মতো বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করেছিল তারা।

এই জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তরুণ গতিতারকা নাহিদ রানা। তাঁর তীব্র গতির বোলিং ও ধারাবাহিক বাউন্সারে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা পুরো ইনিংসজুড়েই ছিলেন চাপে। ১০ ওভারে মাত্র ৪১ রান খরচায় ৪ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। বিশেষ করে জশ ইংলিসকে আউট করার পর তাঁর উদযাপন মাঠে বাড়তি উত্তেজনার জন্ম দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়ার শুরুটাও ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদ বোল্ড করেন ম্যাথু শর্টকে। এরপর মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার হন মার্নাস লাবুশেন। মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বড় চাপে পড়ে সফরকারীরা।

কুপার কনোলি, অ্যালেক্স ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও নাহিদ রানার গতির সামনে সেই চেষ্টা বেশিদূর এগোয়নি। গ্রিনের হাফসেঞ্চুরিও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে পারেনি। বৃষ্টির কারণে ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়।

এর আগে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের সংগ্রহ গড়ে দেন তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের ৯৬ রানের জুটি দলকে শক্ত ভিত এনে দেয়। তানজিদ ৫৪ এবং শান্ত ৬৭ রান করেন।

মাঝপথে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন মোসাদ্দেক হোসেন। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার ৭০ বলে অপরাজিত ৭৯ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা। শেষদিকে দারুণ দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন তিনি।

এই রানই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়। প্রতিপক্ষের শক্তি কিংবা দলগত অবস্থান যাই হোক না কেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে এমন জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেবে। ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাওয়া এই সাফল্য তাই নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স