জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা, শেয়ার কাঠামো এবং পরিচালনা নিয়ে আলোচনার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অতীতে যাঁরা ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে এখন সেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা কাজ করছে। তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনা থেকেই কিছু মহলে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
সংসদে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যবস্থাপনায় অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিতে উত্থাপিত এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যাংকের নামের সঙ্গে ‘ইসলামী’ শব্দ যুক্ত থাকলেই সেটিকে ধর্মের সঙ্গে একাকার করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ধর্মীয় আবেগের আড়ালে এনে সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখার সুযোগ নেই।
আলোচনার সময় তিনি ব্যাংকটির বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে ঋণ বিতরণ, নিয়োগ, পদোন্নতি এবং বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাংকের কিছু ঋণ অনুমোদন, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতের ব্যয় এবং বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয়ে যথাযথ অনুসন্ধান হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে।
ব্যাংকের শেয়ার মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈধভাবে যাঁরা শেয়ার কিনেছেন, তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করা উচিত। কারা কত শতাংশ শেয়ারের মালিক এবং কীভাবে সেই মালিকানা গঠিত হয়েছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।
অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রসঙ্গেও তিনি তদন্তের পক্ষে মত দেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দায় প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ব্যাংক খাতের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। নতুন কোনো অভিযোগ বা তথ্য সামনে এলে সেগুলোকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে।