উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃত্তি অর্জন করে নতুন সাফল্যের নজির স্থাপন করেছেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি)-এর ‘ক্লাস অব ২০২৬’ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ১৭ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের বৃত্তি লাভ করেছেন, যা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষায় তাঁদের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে আইএসডির ‘ক্লাস অব ২০২৬’ ব্যাচের ৩৮ জন শিক্ষার্থীর হাতে গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমা তুলে দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে মাধ্যমিক-পরবর্তী শিক্ষাজীবনের একটি অধ্যায় শেষ করে তাঁরা এখন বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন যাত্রা শুরু করতে প্রস্তুত।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে বিশ্বের খ্যাতনামা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ ভর্তি হচ্ছেন University of Sydney-এ, কেউ King's College London-এ, আবার কেউ University of Manchester, Monash University কিংবা University of Amsterdam-এ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং হংকংয়ের আরও বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন আইএসডির শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে আইএসডির ভূমিকা
গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে নিয়াহরাহ মাহবুব উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাচ্ছেন। তিনি নিউরোবায়োলজি বিষয়ে পড়াশোনা করবেন University of California-এ।
নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নিয়াহরাহ বলেন, আইএসডিতে প্লে-গ্রুপ থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় অধ্যয়ন তাঁকে আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, “আইএসডিতে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা আমাকে শুধু একাডেমিকভাবে নয়, ব্যক্তিগতভাবেও সমৃদ্ধ করেছে। এই প্রতিষ্ঠান আমাকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে স্কুল ও আশপাশের পরিবেশের পরিবর্তন দেখে আমি উপলব্ধি করেছি, ছোট ছোট উদ্যোগও মানুষের জীবনে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”
তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে এবং ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে।
‘এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সম্মিলিত প্রচেষ্টা’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইএসডির পরিচালক স্টিভ ক্যালান্ড-স্কোবল শিক্ষার্থীদের সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমা তুলে দেওয়ার মুহূর্তটি প্রতিষ্ঠানটির জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আবেগঘন একটি উপলক্ষ।
তিনি বলেন, “আজকের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং পরিবারের অব্যাহত সহযোগিতা। আমরা বিশ্বাস করি, তারা ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রাখবে এবং নিজেদের নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।”
তিনি আরও বলেন, আইএসডির লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্য নিশ্চিত করা নয়, বরং তাঁদের এমনভাবে প্রস্তুত করা যাতে তারা বিশ্বনাগরিক হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারে।
বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভিত্তি শিক্ষা
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন International Labour Organization (আইএলও)-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ম্যাক্স টুনন বলেন, “একটি অর্থবহ ক্যারিয়ার গঠন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্বের বিকাশের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষা। বর্তমান বিশ্বে এমন তরুণদের প্রয়োজন, যারা বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা করতে পারে, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে সক্ষম এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ এই কক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, মেধা এবং প্রতিভার বৈচিত্র্য দেখে আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তারা শুধু নিজেদের জন্য নয়, বরং সমাজ ও বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অগ্রযাত্রা
শিক্ষাবিদদের মতে, বিদেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ এবং উল্লেখযোগ্য অঙ্কের বৃত্তি অর্জন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সক্ষমতার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান ও বৈশ্বিক সংযোগেরও একটি ইতিবাচক উদাহরণ।
আইএসডির ‘ক্লাস অব ২০২৬’ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ, দক্ষ শিক্ষক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পাঠক্রমের সমন্বয় ঘটলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ অর্জনে সক্ষম। ১৭ লাখ মার্কিন ডলারের বৃত্তি লাভ শুধু একটি আর্থিক অর্জন নয়; এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ও সম্ভাবনারও শক্তিশালী বার্তা বহন করে।