বিশ্ববিদ্যালয়–মন্ত্রণালয় যৌথ উদ্যোগে শিক্ষক প্রস্তুতি ও নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
ঢাকা, বুধবার: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
ববি হাজ্জাজ
বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, চারুকলা, নাট্যকলা, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের ফলে আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি জানান, শিল্প ও সংস্কৃতিভিত্তিক শিক্ষাকে কেবল সহশিক্ষা কার্যক্রম নয়, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের মূল উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মূল ঘোষণা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে প্রশিক্ষিত তরুণ–তরুণীদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে। আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে ৫০–৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতে পারে বলে সরকারের প্রাথমিক হিসাব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় চায় সরকার
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করতে পারে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা চেয়ে বলেন, সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় যুক্ত হওয়ার উপযোগী করে গড়ে তুলতে যৌথ প্রশিক্ষণ কাঠামো ও পাঠ্যক্রম সমন্বয়ের কাজ শুরু করতে চায় মন্ত্রণালয়।
“আমরা চাই, আপনাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষকতা–সম্পর্কিত প্রস্তুতি যুক্ত করা যায় এবং কীভাবে যৌথভাবে দক্ষ শিক্ষক তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।” — ববি হাজ্জাজ
শিল্প–সংস্কৃতি ‘সহশিক্ষা’ নয়, মূল শিক্ষার অংশ
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সংগীত, নাট্যকলা ও নৃত্যকলাকে শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠাননির্ভর সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এগুলো শিশুদের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস, ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজের অভ্যাস এবং মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ কারণে কারিকুলাম উন্নয়নের পাশাপাশি এখন থেকেই বিশেষায়িত শিক্ষক তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
8
কারিকুলামের সময়সূচি
বছর
পরিকল্পনা
২০২৭
চতুর্থ শ্রেণির শিল্প ও সংস্কৃতি পাঠ্যবইয়ে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা ও নাট্যকলার অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত
২০২৮
নতুন কারিকুলামে এসব বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন
কাদের উপস্থিতিতে বৈঠক
মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও শিক্ষকরা, এবং মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভার আলোচনায় শিক্ষক প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ কাঠামো, কারিকুলাম উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন–সংক্রান্ত সমন্বয় প্রক্রিয়া গুরুত্ব পায়।
যা এখনো চূড়ান্ত নয়
৫০–৬০ হাজার কর্মসংস্থানের সংখ্যা একটি নীতিগত/প্রাথমিক পরিকল্পনা–ভিত্তিক অনুমান; নিয়োগ কাঠামো, পদসংখ্যা, যোগ্যতা, বেতন–স্কেল ও বাস্তবায়ন পর্যায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি।
নতুন কারিকুলাম ও শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ পেলে নিয়োগের ধরন, প্রশিক্ষণ মডিউল ও বিশ্ববিদ্যালয়–স্বীকৃত প্রস্তুতি কর্মসূচির বিস্তারিত জানা যাবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হলেও বাস্তবায়নের সময়সূচি ও বাজেট বরাদ্দের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তন হতে পারে।
প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট
সভাটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন শিক্ষাব্যবস্থায় শিল্প–সংস্কৃতি শিক্ষার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনা হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক পর্যায়ে শিল্প, সংগীত ও নাট্যভিত্তিক শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগকে শিক্ষা–নীতির দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।