ঢাকা

গোলবন্যায় বিশ্বকাপ শুরু জার্মানির, তবু ইতিহাস গড়ল কুরাসাও

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


জার্মানি ৭–১ কুরাসাও

বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রায়ই অসম লড়াই দেখা যায়। তবে সেই অসম লড়াইয়েও জন্ম নেয় গল্প, স্মৃতি আর আবেগের। হিউস্টনে জার্মানি ও কুরাসাওয়ের ম্যাচটিও ছিল তেমনই এক অধ্যায়।

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিল কুরাসাও। ক্যারিবিয়ান সাগরের ছোট্ট এই দ্বীপ রাষ্ট্রের জনসংখ্যা মাত্র দেড় লাখের কিছু বেশি। বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়াই যেখানে তাদের জন্য ঐতিহাসিক অর্জন, সেখানে জার্মানির বিপক্ষে একটি গোল করাও যেন স্বপ্নপূরণ।

ম্যাচের ফল অবশ্য ছিল একতরফা। দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে কুরাসাওকে ৭–১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে জার্মানি। তবে স্কোরলাইনের আড়ালেও কুরাসাও নিজেদের জন্য রেখে গেছে এক গর্বের মুহূর্ত।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় জার্মানি। ষষ্ঠ মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফেলিক্স এনমেচা। বিশ্বকাপের এবারের আসরে এটিই ছিল দ্রুততম গোল।

কিন্তু ২১ মিনিটে ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত। জার্মান রক্ষণ ভেঙে বল জালে পাঠান কুরাসাওয়ের লিভানো কোমেনেনসিয়া। বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম গোলটি করে ছোট্ট দেশটিকে আনন্দে ভাসান তিনি। এমনকি ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারও সেই শট ঠেকাতে পারেননি।

গ্যালারিতে উপস্থিত কুরাসাও সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ফলাফল যাই হোক, বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাদের নাম যে লেখা হয়ে গেছে, সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

তবে সমতায় ফেরার পর যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে জার্মানি। বিরতির আগেই নিকো শ্লটারবেক ও কাই হাভার্টজের গোলে ৩–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইউরোপের দলটি।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল উৎসব অব্যাহত রাখে জার্মানরা। জামাল মুসিয়ালা, নাথানিয়েল ব্রাউন, ডেনিজ উনদাভ এবং হাভার্টজ আরও গোল যোগ করে বড় জয় নিশ্চিত করেন। দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে জার্মানি জানিয়ে দিল, তারা আবারও শিরোপার দৌড়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।

এই ম্যাচে আরেকটি অনন্য রেকর্ডও গড়া হয়েছে। জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগলসমানের বয়স ৩৮ বছর, আর কুরাসাও কোচ ডিক অ্যাডভোকাটের বয়স ৭৮। বিশ্বকাপ ইতিহাসে দুই কোচের বয়সের ব্যবধান এত বেশি আগে কখনো দেখা যায়নি।

২০১৪ সালে শিরোপা জয়ের পর টানা দুই বিশ্বকাপে হতাশা নিয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল জার্মানিকে। তাই এবারের আসরে তাদের এই বড় জয় নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দেবে নিঃসন্দেহে।

তবে দিনের শেষে স্কোরলাইন নয়, আলোচনায় থাকবে আরেকটি গল্পও—বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই নিজেদের প্রথম গোলের আনন্দে ভেসেছে কুরাসাও। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এটাই হয়তো তাদের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স