ঢাকা

বিদ্যালয়ের নাম পাল্টে ব্যক্তির নামে করার উদ্যোগ, আবেদন করলেন বিএনপির সংসদ সদস্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
পাবনা জেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ব্যক্তির নামে নামকরণের আবেদন করা হয়েছে। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা, স্থানীয় মতামত ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের (মাউশি) এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) জারি করা ওই চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়।

যে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের আবেদন

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার ফকিরকান্দি নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘জাকিয়া হাবিব নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়’ করার আবেদন করা হয়েছে।

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পাবনা জেলা প্রশাসকের পাঠানো চিঠির মাধ্যমে এ আবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়।

আবেদনটি করেছেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা, যৌক্তিকতা এবং স্থানীয় পর্যায়ের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সুস্পষ্ট সুপারিশসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।

নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। বিদ্যালয়ের বর্তমান নাম, নতুন নামের যৌক্তিকতা, স্থানীয় জনগণের মতামত, প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ ধরনের নাম পরিবর্তনের আবেদন সরাসরি অনুমোদন না দিয়ে সাধারণত মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়।

সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন সেলিম রেজা হাবিব

আবেদনকারী এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন।

নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

তবে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের আবেদনের বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো কারণ বা ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আসবে প্রতিবেদন

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন একটি সংবেদনশীল বিষয়। তাই এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য, স্থানীয় জনগণের গ্রহণযোগ্যতা এবং নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স