নরওয়ে ৪–১ ইরাক
ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন আর্লিং হলান্ড। ডান দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে ইরাকের গোলরক্ষক জালাল হাসানের সামনে একা হয়ে জোরালো শট নেন তিনি। তবে জালালের পায়ে লেগে বল বাইরে চলে গেলে বিশ্বকাপ অভিষেকে হ্যাটট্রিক থেকে বঞ্চিত হন নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার। শেষ পর্যন্ত জোড়া গোল নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাঁকে।
তবে ম্যাচের চিত্র দেখলে মনে হয়েছে, হলান্ডের দাপট দেখার জন্যই যেন অপেক্ষা করছিল সবাই। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই ২৯ ও ৪৩ মিনিটে গোল করে প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটান তিনি।
যদিও ম্যাচটি কেবল হলান্ডকেন্দ্রিক ছিল না। ৭৬ মিনিটে নরওয়ের হয়ে তৃতীয় গোল করেন স্কিরি অস্টিগার্ড। আর যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে আসে চতুর্থ গোল, যা ছিল ইরাকের অধিনায়ক আইমেন হুসেইনের আত্মঘাতী গোল।
এর আগে অবশ্য ইরাকের একমাত্র গোলটিও করেছিলেন সেই আইমেন। ৩৯ মিনিটে হেড থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। ফলে একই ম্যাচে গোল করা ও আত্মঘাতী গোলের বিরল কীর্তিতে নাম লেখান ইরাকি এই ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটানো খেলোয়াড়দের তালিকায় তিনি এখন তৃতীয়।
ইরাকের জন্য এই গোলের গুরুত্বও ছিল বিশেষ। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথমবার গোল করার পর দীর্ঘ ৪০ বছর ৯ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো দলের প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের মধ্যকার সময়ের ব্যবধানের তালিকায় এটি দ্বিতীয় দীর্ঘতম।
অন্যদিকে নরওয়ের অপেক্ষাও কম ছিল না। ১৯৯৪ সালের পর দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে প্রথম ম্যাচেই চার গোল করে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় তুলে নিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি।
‘আই’ গ্রুপে প্রথম ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থানে ফ্রান্স। সেনেগাল ও ইরাক এখনো পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি।