ঢাকা

শিক্ষায় কর নয়, সহায়তা প্রয়োজন: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহারের দাবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার প্রসার, মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমানোর স্বার্থে এ কর পুনর্বিবেচনা করে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (২২ জুন) এপিইউবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজেট প্রণয়নের আগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত আয়কর প্রত্যাহারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাসও পাওয়া গিয়েছিল। তবে প্রস্তাবিত বাজেটে এর কোনো প্রতিফলন না থাকায় হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

এপিইউবি জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের উচ্চশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিতভাবে অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, গবেষণাগার ও গ্রন্থাগারের মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা-সহায়ক সেবা নিশ্চিত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভ্যাট ও অন্যান্য কর পরিশোধ করতে হয়।

সংগঠনটির মতে, এসব ব্যয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আয়কর বহাল থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও শিক্ষার মানোন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ওপর পড়তে পারে, যার ফলে উচ্চশিক্ষার ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এপিইউবি বলেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়। ফলে অলাভজনক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর আয়কর আরোপ করা নীতিগতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংগঠনটির দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কর আরোপের পরিবর্তে শিক্ষা ও গবেষণায় বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া উচিত।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে করমুক্ত রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বরাদ্দ বাড়েনি বলে মনে করছে এপিইউবি।

সংগঠনটি বলছে, দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান বিবেচনায় নিয়ে গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর আরোপিত আয়কর প্রত্যাহার করা জরুরি।

এপিইউবি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনটির ভাষ্য, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগকে ব্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। তাই উচ্চশিক্ষার বিকাশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে কর নীতিতে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স