ঢাকা

দক্ষতা উন্নয়নেই কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব: শান্ত–মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের সভা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। একদিকে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে প্রচলিত অনেক কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার ধরন বদলে যাচ্ছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের প্রস্তুত করা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও টেক্সটাইল শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। শান্ত–মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির এএমএমটি ডিপার্টমেন্ট এবং এসআইসিআইপি–বিজিএমইএর জব প্লেসমেন্ট অ্যান্ড ডেটাবেজ ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় উঠে আসে, বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তন, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শিল্পের নতুন চাহিদার কারণে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলানোর আহ্বান

সভায় বক্তারা বলেন, এআইয়ের প্রভাবে কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও মানুষের ভূমিকা নিয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন এমন কর্মী খুঁজছে, যাঁদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।

তাঁরা বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জন করলেই বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারে টিকে থাকা কঠিন। শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে শিক্ষার সমন্বয় ঘটানো প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর পরিচালক ও ম্যাগপাই কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন শান্ত–মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির উপাচার্য মো. শাহ–ই–আলম।

দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির ওপর গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনারের বক্তব্যে শান্ত–মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান শিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক বলেন, ভবিষ্যৎ পেশাজীবী তৈরির ক্ষেত্রে শুধু একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; ছোটবেলা থেকেই শিশুদের দায়িত্বশীলতা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা করানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ছোট পরিবারের সন্তানদের শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ঘরের ছোটখাটো দায়িত্ব, পরিচ্ছন্নতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং শিল্প–সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এরাই ভবিষ্যতে দক্ষ ও মানবিক পেশাজীবী হিসেবে গড়ে উঠবে।

বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বিজিএমইএর পরিচালক ও রুমানা ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুমানা রশীদ বলেন, বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল বাজার অর্থনীতি ও শিল্প কাঠামোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হলে দেশের শিল্প খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তরুণদের এমন দক্ষতায় প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তাঁরা পরিবর্তিত কর্মক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারেন।

শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে এ খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ জনবল প্রয়োজন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি, বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম উন্নয়ন করা গেলে কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে বলে তাঁরা মত দেন।

অনুষ্ঠানে শান্ত–মারিয়াম ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অব ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজির ডিন অধ্যাপক শিশির কুমার ভট্টাচার্য, রেজিস্ট্রার পাড় মশিয়ূর রহমান এবং এএমএমটি ডিপার্টমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রধান ফারজানা মিতা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এমএমটি ডিপার্টমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক রিয়াশাদ বিন কবির ও প্রকল্পের কো–অর্ডিনেটর আশফাকুর রহমান।

অংশ নেন শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা

মতবিনিময় সভায় দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছিল ডিবিএল গ্রুপ, এবিএ গ্রুপ, সোনিয়া অ্যান্ড সোয়েটার লিমিটেড, ডিবোনেয়ার ব্যাগ অ্যান্ড লাগেজ লিমিটেড, শিন শিন গ্রুপ, গ্রামটেক নিট ডাইং ফিনিশিং অ্যান্ড গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মাসকো গ্রুপ, এসডিএস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, কিউ কালেকশন প্রাইভেট লিমিটেড এবং পিমকি অ্যাপারেলস লিমিটেডসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ভবিষ্যতের কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত হতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স