ঢাকা

‘চার বছরের পড়াশোনা চার বছরেই শেষ করতে হবে’, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের স্নাতক কোর্স নির্ধারিত চার বছর সময়ের মধ্যেই শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের মূল্যবান সময় যেন কোনোভাবেই অপচয় না হয়, সে জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশ নেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে হলে প্রথমেই শিক্ষার্থীদের সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লেগে যায়, যা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনে প্রভাব ফেলে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতেই হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সময় অপচয় না হয়। এরই মধ্যে আমরা ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন দিয়ে দিয়েছি, যাতে শিক্ষার্থীরা যথাযথ প্রস্তুতির সুযোগ পায়।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমও সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনাই এখন প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের কোর্স চার বছরের মধ্যেই শেষ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো বা নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষার প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীলতা বাড়াতে হবে।

শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব

জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আগামী প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে স্বতঃপ্রণোদনা থাকতে হবে। নিজেদের পেশাগত মর্যাদা ও সম্মান শিক্ষকদের নিজেদের কাজের মাধ্যমে অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম।

ডিজিটাল নকল ঠেকাতে সতর্কতার আহ্বান

পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে নকলের ধরন পরিবর্তন হয়েছে। আগের মতো শুধু প্রচলিত পদ্ধতিতে নয়, এখন অনেকে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করছে।

তিনি পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেন্দ্র সচিবদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনা করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম যেন পরীক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, একটি সুষ্ঠু ও আধুনিক পরীক্ষা ব্যবস্থা দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব।

পার্বত্য অঞ্চলসহ সারা দেশে শিক্ষার উন্নয়নের ওপর জোর

দেশের উন্নয়নে শিক্ষার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব। শিক্ষার আলো সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি বলেন, সারা দেশের পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলেও শিক্ষার উন্নয়নে আরও ব্যাপক কাজ করতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা যাতে সমান সুযোগ পায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা

চট্টগ্রামের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন।

সভায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স