ইউক্রেনের পাঠানো ৬৬০টি ড্রোন রাতভর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করার দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর এক রাতে এত বিপুলসংখ্যক ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা বিরল।
বৃহস্পতিবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে এসব ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী মস্কো, রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপ, কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরসংলগ্ন এলাকা ছাড়াও এক ডজনের বেশি অঞ্চলে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয় বলে দাবি করেছে মস্কো।
তবে রাশিয়ার এ দাবির বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মস্কোমুখী ৪৭ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাজধানীমুখী অন্তত ৪৭টি ড্রোন রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে।
তিনি বলেন, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ যেসব এলাকায় পড়েছে, সেখানে জরুরি সেবা বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
মস্কো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য আরও হামলা মোকাবিলায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তুলা অঞ্চলে বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, আহত এক নারী
মস্কো থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত তুলা অঞ্চলেও বড় ধরনের ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর দিমিত্রি মিলিয়ায়েভ।
তিনি জানান, শেচকিনো জেলার একটি বসতি এলাকায় একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই ঘটনায় এক নারী আহত হয়েছেন।
তবে ওই অঞ্চলে হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটা, তা বিস্তারিত জানাননি তিনি।
রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা বৃদ্ধি
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলার সংখ্যা বেড়েছে।
বিশেষ করে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ইউক্রেনের লক্ষ্য হলো, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উৎস ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করা।
গত সপ্তাহে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে এর আগেও একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন মাত্রা
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই উভয় পক্ষ একে অপরের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরের দূরবর্তী এলাকাগুলোতে ড্রোন হামলার সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে ড্রোন এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তুলনামূলক কম খরচে বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরির সক্ষমতার কারণে উভয় পক্ষই ড্রোন ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব বাড়িয়েছে।