ঢাকা

গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট কমাতে শহরে আসা শিক্ষকদের তালিকা: শিক্ষামন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক পদ শূন্য থাকা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় দুর্বলতা বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, গ্রামাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট তৈরি হলেও অনেক শিক্ষক প্রভাব খাটিয়ে শহরে চলে আসছেন। এ কারণে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, দীর্ঘ সময় ধরে গ্রামের স্কুল থেকে শহরে এসে দায়িত্ব পালন করছেন—এমন শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা। এখন গ্রামের শিক্ষকদের সবাই শহরে আসতে চান। এভাবে সবাই ঢাকা, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা শহরে চলে আসেন। বিগত ২০ বছর ধরে যেসব শিক্ষক ফাঁকি দিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে গ্রামের স্কুল থেকে শহরে এসে বসবাস করছেন, তাঁদের আবার গ্রামের স্কুলে ফিরে যেতে হবে।”

গ্রামীণ শিক্ষায় শিক্ষক সংকট দূর করার উদ্যোগ

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার সামগ্রিক মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই শহরকেন্দ্রিক শিক্ষক সমাবেশ কমিয়ে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের কাছে থাকা এবং যেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেখানে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা। কোনো অনিয়ম বা প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলের বাইরে থাকার সুযোগ আর দেওয়া হবে না।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন কেন্দ্রগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার সময় কোনো ধরনের অনিয়ম, অসদুপায় বা পরীক্ষার্থীদের অবৈধ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। কেন্দ্রসচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব

সভায় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আবদুস ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আবদুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি রেজাউল হক, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিন, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম তৌহিদুজ্জামান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সভায় খুলনা বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স