ঢাকা

বাড়ির ভেতর লুকানো ছিল ১০ হাজারের বেশি ঐতিহাসিক সম্পদ, উদ্ধার করল কর্তৃপক্ষ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজারের বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। প্রত্নসম্পদ চোরাচালানের অভিযোগে এ ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

ইস্তাম্বুলের পুলিশপ্রধান সেলামি ইলদিজ জানান, চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিপুলসংখ্যক ঐতিহাসিক বস্তু উদ্ধার করা হয় এবং সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া নিদর্শনের মধ্যে প্রাচীন মুদ্রা ও শিলালিপি

তুরস্কের বেসরকারি সংবাদমাধ্যম ডিএইচএর (DHA) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রত্নবস্তুর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৩৬৬টি প্রাচীন মুদ্রা, বিভিন্ন শিলালিপি এবং আরও নানা ধরনের ঐতিহাসিক নিদর্শন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব নিদর্শনের সঙ্গে প্রাচীন হিট্টাইট, গ্রিক, রোমান, বাইজেনটাইন এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের সময়কালের সম্পর্ক রয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এসব নিদর্শনের মাধ্যমে ওই সময়কার মানুষের সামাজিক জীবন, ধর্মীয় বিশ্বাস, বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নানা দিক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

প্রত্নসম্পদ রক্ষায় তুরস্কের কঠোর অবস্থান

ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ সংরক্ষণে তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে কঠোর নীতি অনুসরণ করে আসছে। দেশটির আইনে প্রত্নসম্পদ পাচার ও অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

তুরস্কের সংস্কৃতি ও পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধারে তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।

গত বছর বিদেশে পাচার হওয়া ১৮০টি শিল্পকর্ম দেশটিতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয় তুরস্ক। এসব নিদর্শন ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রত্নসম্পদ চোরাচালানের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ

বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার কেন্দ্রভূমি হিসেবে পরিচিত তুরস্কে প্রত্নসম্পদের পরিমাণ বিপুল। হিট্টাইট, গ্রিক, রোমান, বাইজেনটাইন ও উসমানীয় আমলের অসংখ্য নিদর্শন দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব প্রত্নবস্তুর উচ্চমূল্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পাচারের ঘটনা ঘটে আসছে। এ কারণে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রত্নসম্পদ চোরাচালান বন্ধে যৌথভাবে কাজ করছে।

ইস্তাম্বুলের এই অভিযানে উদ্ধার হওয়া নিদর্শনগুলো এখন বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাদের প্রকৃত সময়কাল ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স