দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল জনসম্পদে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। বুয়েটের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি করাই যথেষ্ট নয়, তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে আজকের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই। তাই শিক্ষার্থীদের নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দক্ষ ও কর্মবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যা শিক্ষার্থীদের দক্ষ, কর্মবান্ধব ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিক্ষায় জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বাস্তব জীবনের সমস্যা মোকাবিলা এবং কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার মতো সক্ষমতা শিক্ষার্থীদের অর্জন করতে হবে।
মাহ্দী আমিন আরও বলেন, এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্যের পরামর্শ
সভাপতির বক্তব্যে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, কঠিন ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতা অতিক্রম করে তারা বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এই অর্জনের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বুয়েটের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও দেশের প্রতি দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
উপাচার্য বলেন, বুয়েট থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোই শিক্ষার্থীদের অন্যতম দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা
নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচিতি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হাসিব চৌধুরী, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক নায়েব মো. গোলাম জাকারিয়া এবং ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক এ কে এম মাসুদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের বুয়েটের শিক্ষা পরিবেশ, নিয়ম-কানুন, একাডেমিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশের প্রযুক্তি ও উন্নয়ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।