ঢাকা

৬২১ প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে কড়াকড়ি, শোকজের জবাব চেয়েছে শিক্ষা বোর্ড

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
দীর্ঘদিন ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না করায় দেশের ৬২১টি ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন কেন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। বোর্ড জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালিকায় এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালের ৬২১ প্রতিষ্ঠান

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতের আওতায় থাকা ৬২১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ৪৪৩টি এবং দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ১৭৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কোনো ধরনের শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী না থাকা এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্থবিরতার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।

পাঠদানের অনুমোদন বাতিল হবে কি না, জানতে চাওয়া হয়েছে

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আদেশে বলা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন কেন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, তার যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে হবে।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে বোর্ডে লিখিত জবাব জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, ‘বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান–সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৪’-এর উপবিধি ৪.২, ৪.৪ এবং ৫.৪ অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী ভর্তি, পরীক্ষার ফলাফল, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি এবং পাঠদানের পরিবেশ সংক্রান্ত শর্ত পূরণ।

বোর্ড জানিয়েছে, পাঠদানের অনুমোদন পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত শর্ত নিয়মিতভাবে পালন করতে হয়। এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহার করা যেতে পারে।

কারিগরি শিক্ষার মান নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপ

শিক্ষার্থী সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং অনুমোদনের শর্ত না মানা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতেই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী না থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো চালু রাখার পরিবর্তে সক্রিয় ও মানসম্মত প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করা হলে কারিগরি শিক্ষার গুণগত মান বাড়বে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সর্বশেষ এ সিদ্ধান্তের ফলে এখন ৬২১টি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তাদের দেওয়া ব্যাখ্যা ও নীতিমালা অনুযায়ী শর্ত পূরণের সক্ষমতার ওপর।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স