ঢাকা

‘প্রধানমন্ত্রীর আই হ্যাভ আ প্ল্যানের প্রতিফলন বাজেটে নেই’—বদিউল আলম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’–এর প্রতিফলন নেই বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেছেন, এবারের বাজেটেও আগের ধারার মতোই উচ্চাভিলাষী ব্যয়, একই ধরনের অগ্রাধিকার এবং অবাস্তব কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, ঘোষিত পরিকল্পনার সঙ্গে বাজেটের বাস্তব কাঠামোর সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন ছিল।

শনিবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে অংশ নিয়ে বদিউল আলম মজুমদার এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের যৌথ উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

‘একই ধরনের গতানুগতিক বাজেট’

সমাবেশে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের আগে ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বলে একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু এবারের বাজেটে সেই পরিকল্পনার স্পষ্ট প্রতিফলন তিনি দেখতে পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছিলেন ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। এবারের বাজেটে সেই পরিকল্পনার প্রতিফলন আমি দেখতে পাইনি। একই রকম উচ্চাভিলাষী বাজেট, একই রকম অগ্রাধিকার, একই রকম ব্যয়ের খাত এবং উচ্চাভিলাষী কর আদায়ের অবাস্তব প্রাক্কলন অতীতের মতো এবারও দেখা যাচ্ছে।”

সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই সদস্য বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে কিছু পুরোনো প্রবণতা রয়ে গেছে।

বাজেটের আকার ও ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়ছে, কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বাস্তব সামর্থ্য বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, “বাজেট প্রতিবছর হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে; আমাদের সংগতি আছে কি নেই, সেটা বিবেচনা না করেই এটা হচ্ছে। এবারও তা-ই ঘটেছে।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও বাজেটের অর্থায়নের উৎস হিসেবে উচ্চ কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অতীত কার্যক্রম বিবেচনায় এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ কম।

বদিউল আলম মজুমদারের মতে, কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়বে এবং অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, বিপুল ঋণ ও বিভিন্ন আর্থিক দায়ের কারণে বাজেট একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আটকে যাচ্ছে।

‘স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ অব্যাহত’

বাজেটে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ অব্যাহত রাখার অভিযোগ করেন বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, “বিশেষ করে, সরকারের আপনজন বা অলিগার্কদের খুশি করার জন্য বরাদ্দ রাখা চলছেই।”

তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দেখতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সুশাসন, জবাবদিহি ও সংস্কারভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

বাজেট গণআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ: রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

সমাবেশে আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বাজেট সংশোধনী ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

দিদার ভূঁইয়ার অভিযোগ, এই বাজেট জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিবন্ধন না পাওয়ার প্রতিবাদ

নাগরিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন না দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই আদালতের রায় অমান্য করে দলটিকে নিবন্ধন দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার হলে কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণে কৃষকের ভূমিকা নিশ্চিত হবে এবং নাগরিকদের করের অর্থ ব্যয় করে তাঁদের স্বার্থবিরোধী আইন প্রণয়নের সুযোগ কমবে।

বিভিন্ন দলের নেতাদের বক্তব্য

সমাবেশে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ, জাস্টিস ও ডেভেলপমেন্ট পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমেদ, নেটওয়ার্ক ফর পিপল’স অ্যাকশনের (এনপিএ) সংগঠক কৌশিক আহমেদ, অহিংস গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নজরুল হক এবং ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

বক্তারা বাজেট কাঠামোয় সংস্কার, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স