ঢাকা

মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সংসদে দুই সংশোধনী বিল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে পৃথক দুটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। শনিবার সংসদের বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিল দুটি উত্থাপন করেন।

বিল দুটি উত্থাপনের সময় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে বিল দুটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

প্রস্তাবিত সংশোধনীর মধ্যে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান পুনরায় যুক্ত করার পাশাপাশি মাদক সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে নতুন বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার অপরাধ ও শাস্তির বিধান বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে পৃথকভাবে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মাদক অপরাধ দমনে পৃথক ট্রাইব্যুনালের প্রস্তাব

শনিবার অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে দিনের সম্পূরক কার্যসূচিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল’ সংসদে উত্থাপন করেন।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাধারণ আদালতে মামলার চাপ বেশি থাকায় মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতি আনা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে দ্রুত বিচার না হওয়ায় সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়ছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে সাধারণ আদালতের বিদ্যমান এখতিয়ার বহাল রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় মাদক অপরাধের প্রবণতা বেশি, সেসব এলাকায় পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।

বিলে মাদক সংক্রান্ত প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলার বিষয়েও নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘটিত মাদক অপরাধ প্রতিরোধে আইনগত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রাধিকার এবং ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে বাদ যাচ্ছে জুয়ার বিধান

অন্যদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল’ উত্থাপন করেন।

বিলে বিদ্যমান সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার অপরাধ এবং এ সংক্রান্ত শাস্তির বিধান বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুয়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সাইবার আইনের পরিবর্তে পৃথক ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন’-এর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিলটি পরীক্ষা করে তিনটি বৈঠকের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

বিল উত্থাপন নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি

বিল দুটি সংসদে উত্থাপনের আগে সংসদ সদস্যদের যথাসময়ে অবহিত না করায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়।

বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, কোনো সদস্যের আপত্তি থাকলে তা আগে জানাতে হয়। পাশাপাশি বিলের নোটিশ দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা মার্জনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল উত্থাপনের পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, বিল দুটি এখনই পাস করার মতো কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যথাযথ সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিল পাস করলে সমস্যা কোথায়—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, আইনে কী পরিবর্তন আনা হচ্ছে, সে বিষয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ সংসদ সদস্যদের দেওয়া হলে আলোচনা আরও কার্যকর হতো।

সংসদীয় কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে বিল উত্থাপনের সময় কোনো সদস্য চাইলে নোটিশ না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করতে পারেন। তবে এখন শুধু বিল উত্থাপন করা হচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে পাস করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আইনে কী পরিবর্তন আসছে, তার তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে সেটি এখন দেওয়া হয়নি, কারণ বিল সংসদীয় কমিটিতে যাবে। সেখানে আলোচনা ও সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে বিলের বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনা হতে পারে। এরপর চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইন সংশোধনের কাজ সম্পন্ন হবে।

দুটি আইন সংশোধনের উদ্যোগকে মাদক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা এবং সাইবার অপরাধের আইনি কাঠামো আরও স্পষ্ট করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সরকার।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স