ঢাকা

হরমুজে মাইন ইস্যুতে ইরানের আত্মবিশ্বাসী অবস্থান, বিদেশি সহায়তা প্রত্যাখ্যান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
আনাদোলু এজেন্সি

হরমুজ প্রণালিকে মাইনমুক্ত করতে কোনো বাইরের পক্ষের সহায়তা বা হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির দাবি, এ বিষয়ে বাইরের কোনো পক্ষ যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ কথা জানান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।

ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের বলেন, ‘অন্য যেকোনো পক্ষের চেয়ে ইরান নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে ভালোভাবে জানে এবং তা পালনের সক্ষমতাও তাদের রয়েছে। তাই এখানে অন্য কারও হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন নেই।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া সাম্প্রতিক একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় তেহরান নিজস্ব সক্ষমতা ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে।

বাঘাই জানান, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত এবং বিপরীত পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান ৬০ দিনের জন্য বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অবিলম্বে শুরু হবে। কারিগরি ও সামরিক বাধা অপসারণ এবং ইরান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের মাধ্যমে মাইন নিষ্ক্রিয়করণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হলে ৩০ দিনের মধ্যে এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হবে।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং চলমান থাকবে। অন্য কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই এই কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার মতো যথেষ্ট সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাজনৈতিক পর্যায়ে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যোগাযোগের বিষয়েও বক্তব্য দেন বাঘাই। তিনি জানান, দুই দেশের যোগাযোগ সামরিক পর্যায়ে নয়; বরং রাজনৈতিক পর্যায়ে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে এই যোগাযোগ পরিচালনা করছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ফ্রান্স-ওমানের উদ্যোগের পর ইরানের প্রতিক্রিয়া

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের এই বক্তব্য আসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ-এর একটি ঘোষণার পর।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মাখোঁ জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালি মাইনমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স ও ওমান।

তিনি বলেন, অন্য অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে ফ্রান্সে গেলে প্যারিসে তাঁর সঙ্গে বৈঠকের পর মাখোঁ এ ঘোষণা দেন।

তবে ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, মাইন নিষ্ক্রিয়করণ এবং সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো উপকূলীয় দেশ হিসেবে তাদের সমন্বয়েই পরিচালিত হবে।

তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে এ বিষয়ে ইরানের ভূমিকার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি কেন গুরুত্বপূর্ণ

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্যে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকে এই নৌপথ আঞ্চলিক উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং অস্থায়ী নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গত ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ভিন্ন অবস্থান এখনো বহাল রয়েছে। ইরান এ বিষয়ে নিজেদের প্রাধান্য বজায় রাখার অবস্থান স্পষ্ট করলেও পশ্চিমা দেশগুলো আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স