ঢাকা

এলজিইডির ছয়টি জিপ আবার পেল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আগে ফেরত নিয়ে যাওয়া ছয়টি জিপ গাড়ি আবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে গাড়িগুলো পুনরায় বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এলজিইডির কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। পরে এলজিইডি ছয়টি জিপ সরবরাহ করে।

প্রায় এক বছর আগে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে এলজিইডি নিজেদের ছয়টি জিপ সাময়িকভাবে ব্যবহারের জন্য দিয়েছিল। তবে গত ৪ জুন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন এক চিঠিতে জানান, দীর্ঘদিন নতুন যানবাহন কেনা সম্ভব না হওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প তদারকিতে সংস্থাটি তীব্র যানসংকটে পড়েছে। এ কারণে জিপগুলো ফেরত প্রয়োজন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ৭ জুন এলজিইডি ছয়টি গাড়ি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। এর মধ্যে চারটি ব্যবহৃত হতো চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এবং দুটি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায়।

একই দিন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়ে গাড়িগুলো ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে এবং মামলার তদন্তের প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। তাই এসব জিপ বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিঠিতে আরও বলা হয়, গাড়ির অভাবে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হলে বিচার প্রক্রিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সে সময় আগের ছয়টির পাশাপাশি আরও ছয়টি যোগ করে মোট ১২টি জিপ দেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

তবে ১৬ জুন এলজিইডি জানায়, নিজস্ব প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজ এবং বিদ্যমান যানবাহন সংকটের কারণে অতিরিক্ত গাড়ি দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

পরবর্তীতে দুই পক্ষের আলোচনার পর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় আবার ছয়টি জিপ পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার বিচার চলছে।

ট্রাইব্যুনালের বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী, চিফ প্রসিকিউটরের পদমর্যাদা অ্যাটর্নি জেনারেলের সমমানের হওয়ায় তিনি সরকারি গাড়িসুবিধা পান। এছাড়া অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল সমমর্যাদার দুই প্রসিকিউটরও এ সুবিধার আওতায় রয়েছেন।

অন্যদিকে ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সমমর্যাদার ১৭ জন প্রসিকিউটর নিয়ম অনুযায়ী সরকারি গাড়ির অধিকারী নন। তবে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁদের জন্য গাড়ির দাবি ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নয়; বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তদন্ত ও বিচারকাজ নির্বিঘ্ন রাখতে এ ব্যবস্থা প্রয়োজন।

চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত ছয়টি জিপ না পেলেও এলজিইডি থেকে অন্তত ছয়টি গাড়ি পুনরায় বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা বর্তমানে কার্যালয়ের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স