ফ্রান্স ১-০ প্যারাগুয়ে
নান্দনিক ফুটবলের চেয়ে এই ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল লড়াই, শারীরিক সংঘর্ষ এবং উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপ্পের দ্বিতীয়ার্ধের একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স।
ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ফরাসিদের দখলে। প্রথম দিকে প্রায় পুরো সময়জুড়েই আক্রমণ চালালেও প্যারাগুয়ের শক্ত রক্ষণ ভাঙতে পারেননি এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেরা। পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে গড়া প্রতিপক্ষের রক্ষণ প্রথমার্ধে কার্যকরভাবেই ফরাসি আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয়।
৩৫তম মিনিটে ম্যাচে প্রথম বড় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আন্দ্রেস কুবাসের কঠোর ট্যাকলে এমবাপ্পে মাটিতে পড়ে গেলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে রেফারি ইলগিজ তানতাশেভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলের কেউই লক্ষ্যে শট নিতে পারেনি। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১৯৬৬ সালের পর এমন ঘটনা খুবই বিরল।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ৫২ মিনিটে গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁর লম্বা পাস ধরে এমবাপ্পে একক দৌড়ে এগোলেও শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত ট্যাকলে বিপদ সামাল দেন হুয়ান কাসেরেস। এরপর দেম্বেলে ও কোনেও গোলের সুযোগ তৈরি করলেও প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো গিল এবং রক্ষণভাগ সেগুলো প্রতিহত করে।
৬৫ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য সমতা ধরে রাখার পর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বদলি হিসেবে নামা দেজিরে দুয়ে বক্সে ঢোকার সময় দিয়েগো গোমেজের ফাউলের শিকার হন। প্রথমে খেলা চালিয়ে দিলেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পেনাল্টি দেন মূল রেফারি।
৭০তম মিনিটে স্পটকিক থেকে নির্ভুল শটে জাল খুঁজে নেন এমবাপ্পে। তাঁর এই গোলেই ম্যাচের একমাত্র ব্যবধান গড়ে ওঠে। এবারের বিশ্বকাপে এটি ফরাসি অধিনায়কের সপ্তম গোল এবং বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৯। পাশাপাশি টানা তিনটি বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্বে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েন তিনি।
গোল হজমের পর প্যারাগুয়ে আক্রমণের চেষ্টা করলেও ফ্রান্সের রক্ষণে বড় কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। বরং যোগ করা সময়ের শেষ দিকে এমবাপ্পে আরও দুটি নিশ্চিত সুযোগ পেলেও অসাধারণ দক্ষতায় সেগুলো রুখে দেন গোলরক্ষক অরলান্দো গিল।
ম্যাচজুড়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কঠোর ট্যাকলকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমনকি শেষ বাঁশি বাজার পরও খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দেখা যায়। পরিস্থিতি শান্ত করতে কোচ দিদিয়ের দেশমকেও কয়েকবার মাঠে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের পেনাল্টি থেকেই পাওয়া একমাত্র গোল ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দেয়। এই জয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে শেষ আট নিশ্চিত করেছে ফরাসিরা। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মরক্কো।