ঢাকা

জাতিসংঘের ফোরামে এসডিজি বাস্তবায়নে সহজ ঋণ ও প্রযুক্তি সহায়তার আহ্বান বাংলাদেশের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরামে (এইচএলপিএফ) বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনুদান বৃদ্ধি, সহজ শর্তে অর্থায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের গতি বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নতুন ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব পালন করছে। তবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে সামনে রেখে সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, ২০৩০ সাল পর্যন্ত এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশকে প্রতি বছর প্রায় ১৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন ঘাটতি মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মতো খাতে এই ঘাটতি সবচেয়ে বেশি।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের মানবিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বড় অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এই খাতে প্রায় ৩৭ শতাংশ অর্থায়ন ঘাটতি রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ২৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এত বড় আর্থিক চাপের মধ্যেও বাংলাদেশ দারিদ্র্য হ্রাস, প্রাথমিক শিক্ষায় শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সহযোগিতা কাঠামো এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে পানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বন্যার ঝুঁকি কমানো এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হয়।

এ ছাড়া ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, পরিবেশবান্ধব শিল্প ও সবুজ পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষক কার্ড কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স