বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে যাতে কোনো মেধা ঝরে না পড়ে, সেই লক্ষ্য নিয়ে নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ কর্মসূচি চালু করেছে দেশের অন্যতম ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়াল (বিআইটি)। বিশেষ করে মেধাবী ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার পথ আরও সহজ করতে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর একজন শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে দুই বছরের এ-লেভেল শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেবে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘আনোয়ারা ইসলাম স্কলারশিপ’ নামে চালু হওয়া এই উদ্যোগের আওতায় প্রতিবছর একজন মেধাবী ছাত্রীকে পূর্ণাঙ্গ এ-লেভেল শিক্ষার জন্য শতভাগ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে দুই বছরের পুরো শিক্ষাজীবনে কোনো ধরনের টিউশন ফি কিংবা ভর্তি ফি বহন করতে হবে না। এসব ব্যয় সম্পূর্ণভাবে বহন করবে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়াল।
বিআইটির মতে, বাংলাদেশে ও-লেভেল সম্পন্ন করার পর আন্তর্জাতিক মানের এ-লেভেল শিক্ষায় অগ্রসর হতে এখনও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী অর্থনৈতিক ও পারিবারিক নানা বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখার পথে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা অনেক সময় আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ফলে অনেক মেধাবী ছাত্রী সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই মেয়েদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো, তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে আনোয়ারা ইসলাম স্কলারশিপ চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিআইটি কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশের ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শুধু একজন মেধাবী ছাত্রীর জন্য সম্পূর্ণ এ-লেভেল শিক্ষার ব্যয় বহনের এমন পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ উদ্যোগ অত্যন্ত বিরল। এই কর্মসূচি শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং মেধাবী ছাত্রীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা অর্জনের সুযোগ তৈরি করবে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বেশি মেধাবী শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থায় এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে এটি ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষায় যোগ্য কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং মেধাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক কারিকুলামে অধ্যয়নের ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক পরিবারের জন্য তা বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন উদ্যোগ মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
বিআইটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আরও শিক্ষা-সহায়ক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে তারা কাজ করে যেতে চায়।