ঢাকা

যৌন নিপীড়ন মামলায় ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প, পেলেন ক্যারল ৫৬ লাখ ডলার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রের লেখক ও সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অবশেষে ৫৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদালতের রায়ের প্রায় তিন বছর পর এই অর্থ পরিশোধ করা হলো।

ক্যারলের আইনজীবীরা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

আইনজীবীর নিশ্চিতকরণ

ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে বলেন, জুরির রায় অনুযায়ী নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থ তাঁর মক্কেল পেয়েছেন।

তিনি বলেন, “আজ আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে জুরির রায় অনুযায়ী নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ ই. জিন ক্যারল পেয়েছেন।”

আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যারল মোট ৫৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে জুরির নির্ধারিত ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং আপিল চলাকালে জমা হওয়া সুদের অর্থ।

কেন বিলম্ব হয়েছিল

মামলার রায় ঘোষণার পরপরই ট্রাম্প ক্ষতিপূরণের অর্থ সরাসরি ক্যারলকে না দিয়ে আদালতের নিয়ন্ত্রিত একটি হিসাবে জমা রাখেন।

ট্রাম্পের আইনজীবীরা ক্ষতিপূরণ কার্যকর করতে বিলম্ব করার চেষ্টা করেন, যাতে মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার সুযোগ পাওয়া যায়।

তবে গত সপ্তাহে মামলার বিচারক ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিলে সেই অর্থ ক্যারলের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে ট্রাম্পের আইনজীবী দলের একজন প্রতিনিধি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মামলার পটভূমি

বর্তমানে ৮২ বছর বয়সী ই. জিন ক্যারল একসময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি জনপ্রিয় সাময়িকীর কলামিস্ট ছিলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি পোশাক পরিবর্তন কক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন।

ট্রাম্প বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

মানহানির অভিযোগও যুক্ত হয়

২০২২ সালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ক্যারলের অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেন।

ক্যারলের অভিযোগ ছিল, ওই পোস্টের মাধ্যমে ট্রাম্প তাঁর ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মানহানি করেছেন।

এই অভিযোগও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হয়।

জুরির ঐতিহাসিক রায়

২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি জুরি সর্বসম্মতভাবে রায় দেন যে ট্রাম্প যৌন নিপীড়ন এবং মানহানির ঘটনায় দায়ী।

জুরি ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

যদিও ট্রাম্প শুরু থেকেই রায় ও অভিযোগ উভয়ই প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।

আপিলেও স্বস্তি পাননি ট্রাম্প

জুরির রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প একাধিকবার আপিল করেন।

তাঁর আইনজীবীরা মামলাটিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘প্রতারণামূলক’ বলে আখ্যা দেন। তাঁদের দাবি ছিল, ডেমোক্র্যাটদের অর্থায়নে মামলাটি পরিচালিত হয়েছে।

এ ছাড়া তাঁদের অভিযোগ, বিচারক লুইস ক্যাপলান এমন কিছু প্রমাণ গ্রহণ করেছিলেন, যা জুরিদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।

তবে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত জুরির রায় বহাল রাখেন। আদালত বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় এমন কোনো আইনি ত্রুটি হয়নি, যার কারণে নতুন করে বিচার প্রয়োজন।

পরবর্তীতে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাম্পের আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে ক্ষতিপূরণ পরিশোধের আইনি বাধা পুরোপুরি দূর হয়ে যায়।

সুপ্রিম কোর্টের ওই সিদ্ধান্তের পর ক্যারল নিজের সাবস্ট্যাক ব্লগে লিখেছিলেন, “আমরা জিতেছি!” পরে তিনি আরও লেখেন, “এই বিজয় বিশ্বের প্রতিটি নারীর জন্য।”

আরেকটি মামলায়ও বিপুল ক্ষতিপূরণের রায়

এদিকে ক্যারলের করা আরেকটি পৃথক মানহানি মামলায় ২০২৪ সালে একটি জুরি ট্রাম্পকে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

সেই রায়ের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প আপিল করেন। তবে গত বছর ফেডারেল বিচারকদের একটি বেঞ্চ সেই আপিলও খারিজ করে দেয়।

ফলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্যারলের করা দুটি মামলাতেই আদালতের রায় বহাল রয়েছে। প্রথম মামলার ক্ষতিপূরণ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হলেও দ্বিতীয় মামলার ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স