ঢাকা

কিউএস আফ্রিকা ফোরামে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণে এআইইউবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে বৈশ্বিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে কিউএস আফ্রিকা ফোরাম ২০২৬-এ অংশগ্রহণ করেছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি–বাংলাদেশ (এআইইউবি)। ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার এবং উচ্চশিক্ষা খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সহযোগিতা সম্প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

গত ৯ ও ১০ জুলাই আদ্দিস আবাবার শেরাটন আদ্দিস হোটেলে অনুষ্ঠিত এই ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষামন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। উচ্চশিক্ষার বর্তমান চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এবারের ফোরামের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Skills, Systems and Sustainability’। এই প্রতিপাদ্যের আলোকে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, মেধা ধরে রাখা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কার্যকর ব্যবহার এবং টেকসই উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

ফোরামে অংশ নিয়ে এআইইউবি বাংলাদেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতের অগ্রগতি, গবেষণার সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে নিজেদের উদ্যোগ তুলে ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে বৈশ্বিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এআইইউবির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইশতিয়াক আবেদীন। তাঁর সঙ্গে প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অ্যাসোসিয়েট ডিন অধ্যাপক খন্দকার তাবিন হাসান এবং প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু মিয়া আকন্দ তুহিন।

ফোরামের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি এআইইউবি বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে। এসব সমঝোতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, একাডেমিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।

এআইইউবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও সক্ষম করে তোলাই এ ধরনের অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গবেষণার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং জ্ঞান বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ফোরামে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল প্রস্তাবিত কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম। এআইইউবির মতে, বাংলাদেশে এ ধরনের একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম আয়োজন করা হলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিং উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধি এবং বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে সংযোগ আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্মকর্তারা মনে করেন, কিউএস আফ্রিকা ফোরাম ২০২৬-এ এআইইউবির অংশগ্রহণ শুধু একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে বৈশ্বিক পরিসরে আরও দৃশ্যমান করে তোলা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স