ঢাকা

সবুজবাগে কুপিয়ে হত্যা: নিহত ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রাজধানীর সবুজবাগে ইব্রাহিম পলাশ (৩৬) নামে ওয়ার্ড বিএনপির এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাঁর দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সবুজবাগ থানার রাজারবাগ বাজারের পানির পাম্পসংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত ইব্রাহিম পলাশ লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার সোনাপুর এলাকার আবুল বাশারের ছেলে। তিনি রাজধানীর সবুজবাগের ৭১ নম্বর মাদারটেক এলাকায় বসবাস করতেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একটি ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পেশায় প্রাইভেট কারের চালক ছিলেন।

চায়ের দোকানে বসা অবস্থায় হামলা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতের সঙ্গে আসা তাঁর প্রতিবেশী মো. হীরা জানান, ঘটনার সময় পলাশ স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় একই এলাকার রয়েল, সবুজ, নাঈমসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা পলাশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। হামলার একপর্যায়ে তাঁর দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া তাঁর বুকে অন্তত দুটি গভীর আঘাত করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন।

হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু

প্রথমে গুরুতর আহত পলাশকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।

তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পূর্বশত্রুতার জেরের অভিযোগ

নিহতের প্রতিবেশী মো. হীরা দাবি করেন, কয়েক দিন আগে সবুজবাগ এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে একটি রিকশা চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সবুজ ওই রিকশা চুরি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে পলাশ রিকশাটি উদ্ধারের চেষ্টা করলে সবুজের সঙ্গে তাঁর তর্ক ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের বক্তব্য

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়ে সবুজবাগ থানাকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তদন্তে গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বশত্রুতা, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার কিংবা অন্য কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সময় আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেও তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় জমে যায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স