ভারতে নিট (ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ এবং অধিকারকর্মীদের সঙ্গে কঠোর আচরণের নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি, সংস্কার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছেন।
সোনম ওয়াংচুকের অনশন নিয়েও উদ্বেগ
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। পরে তাঁকে জোরপূর্বক হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করে সংগঠনটি।
দিল্লির কর্মসূচিতে বলপ্রয়োগের অভিযোগ
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যারিকেড স্থাপন করে। পরে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয় বলে তারা অভিযোগ করেছে। এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
একই সময়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
কয়েকটি দাবি তুলে ধরল সংগঠন
বিবৃতিতে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বলপ্রয়োগ, গণগ্রেপ্তার এবং আন্দোলনকারীদের হয়রানি গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি অবিলম্বে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বন্ধ, আটক শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীদের মুক্তি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
মানবাধিকার রক্ষায় আঞ্চলিক সংহতির আহ্বান
সংগঠনটির মতে, দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশে মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আঘাত এলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নৈতিক দায়িত্ব। এ কারণে ভারতের আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, তরুণ এবং মানবাধিকারকর্মীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।
যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষে স্বাক্ষর করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, সজীব তানভীর, মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, মারজিয়া প্রভা এবং নাজমুস সাকিব।