ঢাকা

ইসিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সমালোচনায় জামায়াত, তুলল নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া মো. সামসুল আলমকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, যিনি অতীতে বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় ছিলেন, তাঁর অধীনে কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

রোববার এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে ওই নিয়োগ বাতিল এবং নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সর্বজনগ্রাহ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

‘সংবেদনশীল পদে এ নিয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়’

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিবের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। এমন একটি সংবেদনশীল পদে অবসরের পর সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া একজন ব্যক্তিকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

দলটির ভাষ্য, ৬৭ বছর বয়সী মো. সামসুল আলম অবসরের পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং দলটির একটি নির্দিষ্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন। এমন একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া হলে নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হবে।

‘নিরপেক্ষ নির্বাচনের সঙ্গে প্রতারণা’

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, মো. সামসুল আলম অতীতে প্রকাশ্যে বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর দাবি, এমন একজন সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার অর্থ হচ্ছে নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করা।

‘বিএনপির মিডিয়া সেলের উদ্‌যাপন প্রশ্ন তুলছে’

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও দাবি করেন, মো. সামসুল আলমের নিয়োগের বিষয়টি বিএনপির অফিসিয়াল মিডিয়া সেল প্রচার ও উদ্‌যাপন করছে। তাঁর মতে, এ ঘটনা নির্বাচন কমিশনকে আবারও একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবাধীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত বহন করে।

তিনি বলেন, এ ধরনের নিয়োগ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

নিয়োগ বাতিলের দাবি

জামায়াতে ইসলামী অবিলম্বে মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা, সর্বজনগ্রাহ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

গ্যাস-সংকট নিয়েও উদ্বেগ জামায়াতের

একই দিনে পৃথক আরেকটি বিবৃতিতে দেশের চলমান গ্যাস-সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এলপিজি ও সিএনজি গ্যাসের তীব্র সংকটে দেশের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর প্রভাব পড়ছে বাসাবাড়ির রান্নাবান্না, সিএনজিচালিত যানবাহন চলাচল এবং শিল্পকারখানার উৎপাদনে।

‘অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেট দায়ী’

জামায়াতের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, গ্যাস-সংকটের পেছনে অবৈধ গ্যাস-সংযোগ, সরকারের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং সিন্ডিকেটের প্রভাব অনেকাংশে দায়ী।

একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কোনো অপচেষ্টা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান

গ্যাস-সংকট নিরসনে সরকারকে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, বিদ্যমান গ্যাসকূপ থেকে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত।

বিবৃতিতে বলা হয়, জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং দেশের শিল্প ও অর্থনীতির ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স