ঢাকা

মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় যারা, নজর বিএনপি ও সরকারের তিন পদে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হওয়ায় দল ও সরকারে একসঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে এই তিনটি পদই ছাড়তে হবে তাঁকে। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য পদও শূন্য হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা।

সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি এখন বিএনপির ভেতরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে—মহাসচিবের দায়িত্ব কে নেবেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কার হাতে যাবে এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনে পরবর্তী নির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন।

তিন গুরুত্বপূর্ণ পদই ছাড়তে হবে

বিএনপি ও সরকারের সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের আগেই মির্জা ফখরুল দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ ছেড়েছেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদও তিনি শিগগিরই ছাড়বেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটিও শূন্য ঘোষণা করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে থেকে সংসদ সদস্য থাকা যায় না। ফলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দিনই তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। এরপর ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

অর্থাৎ মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো এবং সরকারের মন্ত্রিসভায় একই সময়ে পরিবর্তন আনতে হবে। দলের মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে নতুন নেতৃত্বের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও নতুন কারও হাতে দিতে হবে সরকারকে।

প্রায় ১৬ বছর পর মহাসচিব পদে পরিবর্তন

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রায় ১৬ বছর ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একজন হয়ে উঠেছেন।

২০১১ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেন। এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে দলের নানা রাজনৈতিক সংকট ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের দেশের বাইরে অবস্থানের সময় দলের নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় মির্জা ফখরুল সামনের সারিতে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবন্দী হয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তিনি দলের সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।

দলের ভেতরে-বাইরে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য ও সংলাপপ্রবণ নেতা হিসেবে তাঁর যে ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, সেটিও মহাসচিব পদে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

এখন তাঁর রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—তাঁর দীর্ঘদিনের জায়গাটি কে পূরণ করবেন?

আলোচনায় সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুহুল কবির রিজভী

দলীয় সূত্র ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় মহাসচিব পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দুজন নেতার নাম বেশি সামনে এসেছে। তাঁরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

দলের গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্যে মহাসচিব পদে সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা এবং বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

অন্যদিকে রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। দলীয় কর্মসূচি, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তবে মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে কে আসবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হতে পারেন রিজভী

বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর মতে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে অথবা কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলটি প্রথমে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ করতে পারে। পরে জাতীয় কাউন্সিল বা তার আশপাশের সময়ে মহাসচিব পদে স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে রুহুল কবির রিজভীর নাম বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। কারণ তিনি বর্তমানে দলের যুগ্ম মহাসচিব হলেও সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নেননি এবং তাঁকে মন্ত্রিসভাতেও রাখা হয়নি। ফলে সাংগঠনিকভাবে তাঁকে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও সংগঠনের দৈনন্দিন কার্যক্রমে আরও বড় দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

দলের কিছু দায়িত্বশীল নেতা মনে করছেন, মহাসচিব পদ শূন্য হলে রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হলে তা একটি অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে কাজ করতে পারে। পরে দলের জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে স্থায়ী নেতৃত্ব নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

তবে এটি এখনো দলীয় আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বই নেবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তনের সম্ভাবনা

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে শুধু বিএনপির মহাসচিব পদেই পরিবর্তন হবে না, সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়েও নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন হবে।

মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করলে তাঁর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নতুন কোনো মন্ত্রীর হাতে দেওয়া হবে, নাকি বর্তমান মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, নগর ও পৌর ব্যবস্থাপনা, গ্রামীণ উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম এই মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত হয়।

ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই মন্ত্রিসভায় এই পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনেও উপনির্বাচন

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটিও শূন্য হবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কার্যভারকালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন। ফলে সংসদ সদস্য হিসেবে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হয়ে যাবে।

এরপর নির্বাচন কমিশন ওই আসনে উপনির্বাচনের আয়োজন করবে। ফলে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিএনপির জন্য শুধু সাংগঠনিক ও মন্ত্রিসভাগত পরিবর্তনই আনবে না, ঠাকুরগাঁও-১ আসনেও নতুন করে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রয়োজন তৈরি করবে।

এ আসনে বিএনপি কাকে প্রার্থী করবে, তা নিয়েও পরবর্তী সময়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা নিয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি প্রার্থী হতে আপত্তি নেই—এমন অঙ্গীকারনামায় সই করেছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে।

এর ফলে দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের সভাকক্ষে ভোট হবে।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। বর্তমানে সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর সংসদ সদস্যের সংখ্যা সংরক্ষিত নারী আসনসহ ৯০।

এই সংসদীয় সমীকরণে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। ফলে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা এখন অত্যন্ত প্রবল।

৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা

রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পর সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবেই এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুলকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে হবে এবং একই সঙ্গে বিএনপি ও সরকারের ভেতরে তাঁর রেখে যাওয়া পদগুলোতে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি হলে মন্ত্রিত্ব রাখার সুযোগ নেই

সংবিধানের বিভিন্ন বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারের মন্ত্রিসভার অংশ। ফলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে থাকার সুযোগ নেই।

তবে শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মন্ত্রিত্ব শেষ হয়—এমন সরাসরি বিধান নেই। রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণের সময় তাঁর মন্ত্রিত্বের অবসান ঘটবে এবং নতুন করে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব বণ্টন করতে হবে।

অতীতেও আবদুর রহমান বিশ্বাস, আবদুল হামিদসহ কয়েকজন নেতা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে স্পিকার বা মন্ত্রিসভার দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাঁরা পূর্বের পদ ছেড়েছেন।

বিএনপির সামনে নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের নতুন অধ্যায়

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির জন্য এটি একই সঙ্গে রাজনৈতিক অর্জন এবং সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের একটি বড় মুহূর্ত হবে। দীর্ঘদিনের মহাসচিবকে হারিয়ে দলকে নতুন মহাসচিব বা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নতুন করে বণ্টন করতে হবে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন মহাসচিব পদ নিয়ে। সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুহুল কবির রিজভীর নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারেক রহমান ও বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা কোন মডেলে নেতৃত্বের পরিবর্তন আনবেন, সেটিই দেখার বিষয়।

জাতীয় কাউন্সিল সামনে থাকায় দলটি হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ করে পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে স্থায়ী নেতৃত্ব নির্বাচন করতে পারে। আবার শীর্ষ নেতৃত্ব চাইলে এখনই পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তাই বিএনপির রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলোর একটি হতে যাচ্ছে—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ নেতৃত্বের পর দলের মহাসচিবের দায়িত্ব কার হাতে যাচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের মন্ত্রিসভা ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কী ধরনের নতুন সমীকরণ তৈরি হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স