ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি নেতার সহযোগীর হুঁশিয়ারি: পারমাণবিক হামলা হলে পরদিনই মার্কিন ঘাঁটি দখল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে তার পরিণতি ওয়াশিংটনের জন্য ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালায়, তাহলে পরদিন সকালেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো দখলের চেষ্টা শুরু হবে।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে ইরানের এই জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এসব কথা বলেন। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত।

জেনারেল নাকদি একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত করার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় পর্যন্তও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কৌশল বিবেচনা করতে পারে তেহরান। ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা।

ইরানি এই জেনারেলের বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে করা আগের সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ইরানের অভিজ্ঞতা তত বাড়বে

পিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেনারেল নাকদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ইরানের জন্য নতুন। তবে চলমান সংঘাতের মধ্য দিয়ে ইরানি বাহিনী মার্কিন সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ইরানের অভিজ্ঞতাও তত বাড়বে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কীভাবে বাস্তব যুদ্ধ পরিচালনা করতে হয়, সে বিষয়ে ইরানের এমন অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু গত কয়েক মাসের সংঘাত থেকে তারা সেই কৌশল ভালোভাবে শিখে নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে কোনো শত্রুকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও মাশুলের বিষয়টি বিবেচনা করতে বাধ্য করা।

জেনারেল নাকদি বলেন, এমন একটি প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শত্রু ইরানের ওপর হামলা চালানোর সাহস না পায়। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রতিরোধ তৈরি করতে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করা এবং প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু করে তোলা একটি কৌশল হতে পারে।

ট্রাম্পের মেয়াদ পর্যন্ত যুদ্ধ চালানোর ইঙ্গিত

ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াই ইরানের লক্ষ্য কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাকদি সরাসরি তা অস্বীকার করেননি। বরং তিনি বলেন, আগামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত যুদ্ধ টেনে নেওয়া এবং শত্রুকে ক্ষয়িষ্ণু করে ফেলা তাঁদের সম্ভাব্য কৌশলের অন্যতম দিক হতে পারে।

তাঁর যুক্তি হলো, কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার কথা ভাবলে তাদের যেন আগে থেকেই জানা থাকে যে এর জন্য বড় ধরনের মূল্য দিতে হবে।

এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তেহরান সংঘাতকে কেবল তাৎক্ষণিক সামরিক লড়াই হিসেবে দেখছে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যৎ মার্কিন প্রশাসনগুলোর ওপর প্রভাব তৈরির কৌশল হিসেবেও বিবেচনা করছে।

তবে নাকদির বক্তব্য ইরানের সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় নীতি কি না, সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে স্বাধীনভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এটি একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য হিসেবেই এসেছে।

পারমাণবিক হামলার হুমকির জবাব

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাকদি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ভুল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তাঁর সবচেয়ে কঠোর সতর্কবার্তা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করে, তাহলে তার পরদিনই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো দখলের চেষ্টা করা হবে।

নাকদি দাবি করেন, বর্তমান বিশ্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিশ্বের মতো নয়। এখন বিশ্বের মানুষ অনেক বেশি সচেতন এবং কোনো দেশের ওপর এমন হামলা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।

তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরান পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনাকে শুধু সামরিক হামলা হিসেবে দেখছে না; বরং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরছে।

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রয়োজন নেই: নাকদি

ইরান নিজে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে কি না, জানতে চাইলে জেনারেল নাকদি বলেন, এর কোনো প্রয়োজন নেই।

ইরানের শক্তির উৎস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের সমর্থন, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে ইরানের পাশে রয়েছে।

তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই এবং দেশটি গণহত্যার পথও বেছে নিতে চায় না।

তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অভিযোগ, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ভবিষ্যতে অস্ত্র তৈরির পথে যেতে পারে।

নাকদির বক্তব্যে অবশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো প্রয়োজন নেই—এমন অবস্থানই তুলে ধরা হয়েছে।

‘ডেথ টু আমেরিকা’ স্লোগানের ব্যাখ্যা

ইরানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ‘ডেথ টু আমেরিকা’ স্লোগান নিয়েও সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়। মার্কিন রাজনীতিকেরা এই স্লোগানের তীব্র সমালোচনা করে থাকেন।

জবাবে নাকদি বলেন, এই স্লোগানের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে শত্রুতা নয়। তাঁর ব্যাখ্যায়, ‘ডেথ টু আমেরিকা’ বলতে মূলত মার্কিন নেতৃত্ব ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান বোঝানো হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব পরাশক্তি হওয়ার পর বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশে সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে বা আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।

তাঁর দাবি, ইরানের সাধারণ মানুষের যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সরকারের মধ্যে বিরোধ থাকলেও সেটিকে জনগণের পারস্পরিক শত্রুতা হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিয়ে ইরানের দাবি

সাক্ষাৎকারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বিষয়টিও উঠে আসে। নাকদি দাবি করেন, ইরান শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওপর নির্ভর করে যুদ্ধ করছে না। তাঁর মতে, ইরানের প্রতিরোধক্ষমতার মূল ভিত্তি তাদের বিশ্বাস ও মনোবল।

তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান প্রতিদিন যত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করছে, তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম।

ইরান কোথায় ও কীভাবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। বরং বলেছেন, অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একাধিক গোপন পদ্ধতি ইরানের জানা রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ দীর্ঘ সময় চললেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে না।

এমনকি ইরানের কাছে কোনো একসময় আর একটি ক্ষেপণাস্ত্রও অবশিষ্ট না থাকলেও দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে নাকদি বোঝাতে চেয়েছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা শুধু প্রচলিত অস্ত্রের মজুতের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধযুদ্ধের জন্য দেশটির বিকল্প সক্ষমতা রয়েছে।

ফেব্রুয়ারির হামলা থেকে নতুন সংঘাত

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা এবং অন্যান্য সম্পদের ওপর পাল্টা হামলা শুরু করে।

এর ফলে সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক পর্যায়ে বিস্তৃত হয়। সামরিক স্থাপনা, নৌপথ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর এর প্রভাব পড়ে। সংঘাত যত দীর্ঘ হয়েছে, ততই আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার সক্ষমতার দাবি এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দেওয়ার ঘটনা সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থা

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটিও এখন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত জুনে সম্মত হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করা এবং সেটি কার্যকর করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।

গত ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ১৪ দফার একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং ৬০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষের একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো।

কিন্তু সেই উদ্যোগ বেশিদিন টেকেনি। গত ৮ জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, চুক্তিটি ভেঙে গেছে। এর এক সপ্তাহ পর তেহরানও সমঝোতা স্মারক স্থগিত করে।

এরপর ইরান ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে চুক্তির প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। ফলে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চুক্তির অধীনে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তেহরান তা বাস্তবায়ন করেনি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। এই পথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক তেলবাজার, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে ইরানের দাবি, ওয়াশিংটনই প্রথম তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। তেহরানের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের অবরুদ্ধ ব্যাংক সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার মতো বিষয়।

ফলে দুই পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী শান্তির পথে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

সামনে দীর্ঘ সংঘাতের আশঙ্কা

জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদির বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইরানের সামরিক নেতৃত্ব অন্তত প্রকাশ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে—এমন সতর্কবার্তাও দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগের সমঝোতা ভেঙে যাওয়ায় কূটনৈতিক সমাধানের পথও এখন অনিশ্চিত। হরমুজ প্রণালি, অবরোধ, ইরানের ব্যাংক সম্পদ এবং সামরিক অভিযান বন্ধের মতো বিষয়গুলোতে দুই দেশের অবস্থানের বড় পার্থক্য রয়েছে।

ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক অচলাবস্থাও দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্য হুমকি-পাল্টা হুমকি এবং ইরানের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধের ঘোষণা সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

এ অবস্থায় যুদ্ধের মেয়াদ কতটা দীর্ঘ হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আবার শুরু হয় কি না এবং হরমুজ প্রণালিসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো নতুন সমঝোতা তৈরি করা যায় কি না—এসবের ওপরই মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স